আমেরিকা

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্র্যাটার্নি হাউসে যৌ ন নি পী ড়নের অভিযোগ: দুই বছর পর কেন আবার তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফ্র্যাটার্নি হাউসে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত দুই বছর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালে অভিযোগ করার পরও ফৌজদারি মামলা হয়নি। তবে ওই শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্র্যাটার্নি এবং সাতজন পুরুষের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করার পর বিষয়টি আবার সামনে আসে। এরপর স্থানীয় প্রসিকিউটর তদন্ত পুনরায় শুরু করেন। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই সময় ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ‘জেন ডো’ নামে পরিচিত। তার অভিযোগ, তিনি কর্নেলের চি ফাই ফ্র্যাটার্নি হাউসে যাওয়ার পর মাদক ও অ্যালকোহল গ্রহণ করেন এবং পরে একাধিক পুরুষ তাকে যৌনভাবে নিপীড়ন করেন। তবে অভিযোগের বিভিন্ন পর্যায়ে তার বক্তব্য নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর, ৮ নভেম্বর ২০২৪ সালে জেন ডো কর্নেল ইউনিভার্সিটি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। ১৪ নভেম্বর তিনি পুলিশের কাছে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। পুলিশ পরে বিষয়টি টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে পাঠায়। সেই সময় প্রসিকিউটররা ফৌজদারি অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই বলে সিদ্ধান্ত নেন। এরপর কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্বভাবে বিষয়টি তদন্ত করে। ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের Title IX তদন্তে অন্তত ১২টি শুনানি হয় এবং ৩২ জন সাক্ষীর সঙ্গে প্রায় ৫০টি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় এবং চি ফাই ফ্র্যাটার্নির কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়। তবে ২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জেন ডো নতুন করে দেওয়ানি মামলা করলে ঘটনাটি আবার জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তাকে মাদক খাওয়ানো ও যৌন নিপীড়নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো তাকে যথাযথভাবে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযুক্ত কয়েকজনের আইনজীবী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর পর ২৭ সেপ্টেম্বর টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন তদন্ত পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্য এবং ২০২৬ সালের দেওয়ানি মামলায় থাকা অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে নতুন করে প্রকাশিত পুলিশি নথিতে জেন ডো ঘটনাটিকে ‘জোরপূর্বক’ বা coercion হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন বলে উঠে আসে। এই পরিস্থিতিতে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল স্থানীয় তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ১ অক্টোবর তিনি নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব দেন। এখন জেমসের কার্যালয় পুরো বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করবে, সাক্ষীদের বক্তব্য ও প্রমাণ পরীক্ষা করবে এবং প্রয়োজন হলে ফৌজদারি অভিযোগ আনার বিষয়টি বিবেচনা করবে। অর্থাৎ, ২০২৪ সালে অভিযোগ দায়ের থেকে শুরু করে পুলিশের তদন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের Title IX প্রক্রিয়া, ২০২৬ সালের দেওয়ানি মামলা এবং স্থানীয় প্রসিকিউটরের পুনরায় তদন্ত—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের হয়নি, এবং নতুন তদন্তের ফল কী হবে তা এখনো জানা যায়নি।