বাংলাদেশ

বাজেট পাস ২৮ জুন

২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আগামী ২৮ জুন জাতীয় সংসদে অনুমোদন দেওয়া হবে। এর আগে আগামীকাল ২৭ জুন ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের অর্থবিল পাস হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক হবে। বৈঠকে বাজেটে কোনো পরিবর্তন আনা প্রয়োজন কি না সে বিষয়সহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হবে বলে তিনি জানান।

গত ৭ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার (যা জিডিপির ১৮.৩ শতাংশ) বিশাল বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল খুব গুরুত্বপূর্ণ দিন। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আগামীকাল প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। আর জাতীয় সংসদে আগামী ২৮ জুন বাজেট পাস হবে। তার আগে আগামীকাল ২৭ জুন পাস হবে অর্থবিল।

বাজেট পাসের তারিখ এগিয়ে আনা হলো কেন, এ বিষয়ে তিনি বলেন, শনি, রোববারে আর যেতে চাইনি। ২৮ তারিখে শেষ করে দিব। আমরা ইচ্ছা করলে ৩০ তারিখে বাজেট পাস করতে পারতাম। এক দিন হয়তো বাড়ানো যেত। কিন্তু সেটা করা হয়নি।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সরকারের অংশ হয়েও বিরোধী দলের কিছু সদস্যের বক্তব্য দারুণ রকমের উগ্র। আমার মনে হয়, এটা ঠিক নয়। কারণ, সংসদে যখন বাজেট উপস্থাপন করা হয়, তখন তাদের মন্ত্রীরাও আমাদের সঙ্গে থাকেন।

তিনি বলেন, তারা বিরোধী দল, ঠিক আছে। তবে এটা মনে রাখা উচিত, তারা বিরোধী দল হলেও সরকারের অংশ। তাদের দলের ক্যাবিনেট সদস্যরাও প্রস্তাবিত বাজেটে অনুমোদন দিয়েছেন। সুতরাং এটা আমার একার বাজেট নয়।

বিরোধিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অধিকাংশ সময় সংসদে উপস্থিত ছিলাম। তারা সংসদে এমন আচরণ করেছেন যে, মনে হয়েছে, তারা সরকারের কোনো অংশ নয়।’

প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হবে কি না? জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদে সেসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিবেন।

প্রধানমন্ত্রী নতুন কী পরিবর্তন আনতে পারেন, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনো আমি জানি না। আজকে সন্ধ্যায় জানতে পারব। কারণ, সন্ধ্যায় তার সঙ্গে আমার এ বিষয়ে বৈঠক আছে।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সংসদে বাজেট প্রস্তাবের পর আগামীকালসহ ১৯ দিন সংসদে এ নিয়ে আলোচনা হবে। এ সময়ে সংসদের বাইরে বিভিন্ন গণমাধ্যম, ব্যবসায়ী সমিতি, বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ফোরামে যেসব মন্তব্য ও পরামর্শ এসেছে, সেগুলোর ওপর নির্ভর করে কিছুটা পরিবর্তন, কিছুটা একেবারেই নতুন বিষয় থাকবে, সেগুলো আগামীকালই জাতীয় সংসদে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ব্যাংকিং খাত সংস্কারের বিষয়ে আগামী জুলাইয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত নিয়ে সমালোচনা রয়েছে, এটা থাকুক। এর প্রতিউত্তর আমি যথাসময়ে দেব। এ বিষয়ে আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি। আগামী জুলাইয়ে এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসব।

তিনি বলেন, ব্যাংকের বিষয়ে সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ সেটা হচ্ছে, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া। এ ব্যাপারে কিছু করতে হবে। আগামী জুলাইয়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।

ব্যাংকের লুটপাট বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি একমত নই। লুটপাট মানে হচ্ছে ব্যাংকের সম্পদ ব্যাংকের পরিচালকরা নিয়ে নিচ্ছেন। এমনটি হচ্ছে না। তবে এক্ষেত্রে একটা খারাপ দিক রয়েছে। সেটি হচ্ছে এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংকের পরিচালকদের সঙ্গে সমঝোতা করে ঋণ নিয়ে নিচ্ছেন।’

‘এক ব্যাংকের পরিচালক হয়ে অন্য ব্যাংক থেকে কিছু কনফ্লিক্ট ইস্যু থাকা সত্বেও ঋণ নিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে আমার ধারণা, আমি মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছি। কিন্তু এ বিষয়ে অন্য স্টেক হোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তাই জুলাই পর্যন্ত সময় লাগবে।’

২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে করমুক্ত আয়সীমা। তবে বিভিন্ন মহল থেকে আয়সীমা বাড়ানোর দাবি জানানো হলেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এটা এখন বাড়ানো হবে না, ভবিষ্যতেও বাড়ানো হবে না।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের মতো আগামী ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির আয় আড়াই লাখ টাকার বেশি হলেই তাকে আয়কর দিতে হবে।

করপোরেট ট্যক্সে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, করপোরেট ট্যাক্সে পরিবর্তন আনার তেমন কোনো সুযোগ নেই।

মোবাইল বা ইন্টারনেটে ভ্যাট কমানোর কোনো উদ্যোগ থাকছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোবাইলে তো আমার প্রস্তাবই ভালো। আইসিটির বেশিরভাগ ট্যাক্সই ৫ শতাংশ। আর বাকি সব জিরো। এ বিষয়ে আইসিটি তো খুব সন্তুষ্ট।

‘তবে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমার একটা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আরো কিছু প্রস্তাব ছিল। এগুলো আমরা কিছুটা সংশোধন করব। এসব বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার খুবই খুশি। আমরা আশা করছি যে, আইসিটিতে আমরা ইয়াং জেনারেশনকে আরো বেশি আকর্ষণ করতে পারব।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি