কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাওয়ায় যৌন হয়রানির শিকার হওয়া ছাত্রী অভিযোগ করেছেন, শুধু শহিদ মিনারেই নয়, থানায় নিয়েও তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে থানায় নেওয়া হয়; সেটা ছিল ‘জাহান্নাম’ এবং থানা ছিল দ্বিতীয় ‘জাহান্নাম’।
৫ জুলাই, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে সাংবাদিকদের ওইসব কথা জানান নির্যাতিত সেই শিক্ষার্থী। মরিয়াম মান্নান ফারাহ নামের ওই শিক্ষার্থী তেজগাঁও কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়ছেন।
২ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে দেওয়া কর্মসূচিতে অংশ নিতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় যান মরিয়ম মান্নান। সেদিন শহিদ মিনার এলাকায় মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসানের ওপর হামলা হলে এগিয়ে যান মরিয়ম। এ সময় তিনি হামলাকারীদের নিগ্রহের শিকার হন।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মরিয়ম মান্নান জানান, ফারুক হাসানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি বাসায় ফিরতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। একপর্যায়ে শহিদ মিনারের কাছাকাছি প্রায় দুইশ মোটরসাইকেল আরোহী তার অটোরিকশাকে ঘিরে ধরেন। ওই সময় তার মোবাইল ও ব্যাগ কেড়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার বর্ণনায় মরিয়ম বলেন, ‘আমি জানি না ওরা কারা। আমাকে বলেছে, “ওরা ছাত্রলীগ”। আমি তো জানি না ওরা কী করে। ফারুক ভাইকে যখন নিয়ে গেল, আমি সাইড হয়ে গেলাম। সবাই একদিকে, মিডিয়া-প্রেস। আমি সিএনজিতে উঠেছি বাসায় চলে যাওয়ার জন্য। ওই সিএনজিটা ঘিরে ধরেছে মিনিমাম ২০০ মোটরসাইকেল। শহিদ মিনার থেকে কিছুটা দূরে (সিএনজি) ধরার পরে আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমার ফোন-ব্যাগ নিয়ে গিয়েছে। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, (সিএনজি) ধাক্কাচ্ছে। এরপর যে নোংরা কথাগুলো বলেছে, সেগুলো আমি বলতে পারব না।’
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত মরিয়ম মান্নান বলেন, ‘সিএনজির ভিতরেও ঢুকছে। তারপরে কী করছে, এগুলোও বলব? কীভাবে কীভাবে আমাকে টাচ করছে? আমাকে বলছে, আমি বেশ্যা। এরপরে আমাকে নিয়ে গেল শাহবাগ থানায়। কিন্তু সিএনজির প্রত্যেকটা মুহূর্ত আমার কাছে মনে হয়েছে জাহান্নাম। ওরা যখন বলছে থানায় নিয়ে চল...(অশ্লীল শব্দ), তখন মনে হয়েছে থানা আমার জন্য সেফ। কিন্তু থানায় যেয়ে মনে হলো থানা আমার জন্য সেকেন্ড জাহান্নাম। সাথে সাথে আমার ব্যাগ খুলল। বলল, ও তো ইয়াবা খায়। তারা আমার ব্যাগ থেকে বের করল একটা ছুরি। আমি কেন ছুরি নিয়ে আসব? আমি তো বলে আসছি, আমি আন্দোলনে যাচ্ছি, ভাইদের কাছে যাচ্ছি।’
ফারুক হাসানকে রক্ষা করতে গেলে এভাবেই আক্রমণের শিকার হন মরিয়ম মান্নান। ছবি: সংগৃহীত
মরিয়ম বলেন, ‘তারা ছুরি বের করল, লাইটার বের করল, আরও কী কী বের করল। বের করে বলল, আমি ইয়াবা খাই। আমাকে জোর করতেছে বলতে যে আমি ইয়াবা খাই। আমি নেশা করি। আমি বললাম, আমার ব্যাগটা তারা নিয়ে গিয়েছিল। আমার ব্যাগে কিচ্ছু ছিল না, ছিল ওয়াটার পট আর দুটো মেকাপ। আর কিছুই ছিল না। কিন্তু তারা ফোর্স করতে লাগল। এটা বলে, ওটা বলে। দুজন সাংবাদিকও এলো। আমি তাদেরকে বললাম কী, আমার বাসায় একটু কল দিতে। আমি তখনো জানি না আমার ছবিটা ভাইরাল হয়েছে। এর মধ্যে আমাকে মানসিকভাবে টর্চার তো করেই যাচ্ছে, স্বীকার করানোর জন্য যে, আমি নেশা করি আর ওই জিনিসগুলো আমার।’
‘এটা আমার দেশ না’—এমন মন্তব্য করে পুলিশের আচরণে ক্ষুব্ধ মরিয়ম বলেন, ‘এই আচরণ আমার দেশের পুলিশ করেছে। এটা আমার দেশ না। আমার দেশ হলে আমার থানায় বসে, যেখানে আইন থাকে, সেখানে বসে আমি এত বেশি হ্যারাজ হতাম না। আমি মানুষের দেশে থাকি। এটা যদি আমার দেশ হতো, তাহলে তো আমি সেফ থাকতাম। আমি যখন বারবার কান্না করে বলতেছি আমার বাসায় একটা ফোন দিতে দেন, আমি বাসায় যাব। দিচ্ছে না, বলে কী, নেতা হবা? নেতা হতে হলে জেল খাটতে হয়। আমি তখনো জানি না, তাদের ফোনে আমার ছবি দেখতেছে! আর বলতেছে, জাতীয় নেতার কাপড় খোল তো, জাতীয় নেতাকে দেখ তো। তখনো আমি বুঝতেছি না আমারে দেখতেছে।’
মরিয়ম মান্নান ফারাহ বলেন, ‘আমি সবার সামনে সবার জন্য এসেছিলাম। আমি আমার পেটের দায়ে আসি নাই। আসছিলাম কুকুরের মতো মরে যাচ্ছে ছেলেগুলো, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আমি সবার সামনে যেমন এসেছিলাম আজকে আমি তেমন সবার সামনে চলে যাব। আমাকে সবাই জিজ্ঞেস করছে আমি কী চাই? বলছে আমাকে সম্মান দিবে! আমাকে লাঞ্ছিত করা হইছে, আমাকে সম্মান দিবে! আমি যে কারণে আসছিলাম, আন্দোলনে আসছিলাম না? যদি আমাকে সম্মান দিতে হয়, প্রজ্ঞাপন যেন আমাকে এনে দেয়। আমার গা থেকে যেন বেশ্যা ট্যাগটা তুলে দেয়। এই ট্যাগ তুলে দিয়ে আমি সাধারণ ছাত্রী, এটা যেন বলে দেয়। আমি শিবির না, আমি জামায়াত না, এটা যেন তুলে দেয়। আমার আজকে কারো উদ্দেশে কিছু বলার নাই।’
এর আগে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এই মিছিলেও বাধা দেওয়া হয়েছে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন মৌসুমি নামের একজন। তিনি বলেন, ‘মিছিল করতে যেয়ে আজকে আমরা বাধার সম্মুখীন হয়েছি। সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে যখন আসি তখন ওরা নানা ধরনের কটূক্তি করে। আমরা জানি না ওরা কারা, ক্যাম্পাসের নাকি বাইরের। এরপর আমরা যখন মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে যাই, সেখানেও আমাদেরকে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। আমরা সেখানে ক্যাম্পাসের চাইতে বহিরাগত বেশি দেখি। পরে আমরা মিছিল নিয়ে এখানে (রোকেয়া হলের সামনে) আসতে বাধ্য হই। আমরা ক্যাম্পাসের এই বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি, আগামীতেও করব।’
এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি
৫ জুলাই, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে সাংবাদিকদের ওইসব কথা জানান নির্যাতিত সেই শিক্ষার্থী। মরিয়াম মান্নান ফারাহ নামের ওই শিক্ষার্থী তেজগাঁও কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়ছেন।
২ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে দেওয়া কর্মসূচিতে অংশ নিতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় যান মরিয়ম মান্নান। সেদিন শহিদ মিনার এলাকায় মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসানের ওপর হামলা হলে এগিয়ে যান মরিয়ম। এ সময় তিনি হামলাকারীদের নিগ্রহের শিকার হন।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মরিয়ম মান্নান জানান, ফারুক হাসানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি বাসায় ফিরতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। একপর্যায়ে শহিদ মিনারের কাছাকাছি প্রায় দুইশ মোটরসাইকেল আরোহী তার অটোরিকশাকে ঘিরে ধরেন। ওই সময় তার মোবাইল ও ব্যাগ কেড়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার বর্ণনায় মরিয়ম বলেন, ‘আমি জানি না ওরা কারা। আমাকে বলেছে, “ওরা ছাত্রলীগ”। আমি তো জানি না ওরা কী করে। ফারুক ভাইকে যখন নিয়ে গেল, আমি সাইড হয়ে গেলাম। সবাই একদিকে, মিডিয়া-প্রেস। আমি সিএনজিতে উঠেছি বাসায় চলে যাওয়ার জন্য। ওই সিএনজিটা ঘিরে ধরেছে মিনিমাম ২০০ মোটরসাইকেল। শহিদ মিনার থেকে কিছুটা দূরে (সিএনজি) ধরার পরে আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমার ফোন-ব্যাগ নিয়ে গিয়েছে। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, (সিএনজি) ধাক্কাচ্ছে। এরপর যে নোংরা কথাগুলো বলেছে, সেগুলো আমি বলতে পারব না।’
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত মরিয়ম মান্নান বলেন, ‘সিএনজির ভিতরেও ঢুকছে। তারপরে কী করছে, এগুলোও বলব? কীভাবে কীভাবে আমাকে টাচ করছে? আমাকে বলছে, আমি বেশ্যা। এরপরে আমাকে নিয়ে গেল শাহবাগ থানায়। কিন্তু সিএনজির প্রত্যেকটা মুহূর্ত আমার কাছে মনে হয়েছে জাহান্নাম। ওরা যখন বলছে থানায় নিয়ে চল...(অশ্লীল শব্দ), তখন মনে হয়েছে থানা আমার জন্য সেফ। কিন্তু থানায় যেয়ে মনে হলো থানা আমার জন্য সেকেন্ড জাহান্নাম। সাথে সাথে আমার ব্যাগ খুলল। বলল, ও তো ইয়াবা খায়। তারা আমার ব্যাগ থেকে বের করল একটা ছুরি। আমি কেন ছুরি নিয়ে আসব? আমি তো বলে আসছি, আমি আন্দোলনে যাচ্ছি, ভাইদের কাছে যাচ্ছি।’
ফারুক হাসানকে রক্ষা করতে গেলে এভাবেই আক্রমণের শিকার হন মরিয়ম মান্নান। ছবি: সংগৃহীত
মরিয়ম বলেন, ‘তারা ছুরি বের করল, লাইটার বের করল, আরও কী কী বের করল। বের করে বলল, আমি ইয়াবা খাই। আমাকে জোর করতেছে বলতে যে আমি ইয়াবা খাই। আমি নেশা করি। আমি বললাম, আমার ব্যাগটা তারা নিয়ে গিয়েছিল। আমার ব্যাগে কিচ্ছু ছিল না, ছিল ওয়াটার পট আর দুটো মেকাপ। আর কিছুই ছিল না। কিন্তু তারা ফোর্স করতে লাগল। এটা বলে, ওটা বলে। দুজন সাংবাদিকও এলো। আমি তাদেরকে বললাম কী, আমার বাসায় একটু কল দিতে। আমি তখনো জানি না আমার ছবিটা ভাইরাল হয়েছে। এর মধ্যে আমাকে মানসিকভাবে টর্চার তো করেই যাচ্ছে, স্বীকার করানোর জন্য যে, আমি নেশা করি আর ওই জিনিসগুলো আমার।’
‘এটা আমার দেশ না’—এমন মন্তব্য করে পুলিশের আচরণে ক্ষুব্ধ মরিয়ম বলেন, ‘এই আচরণ আমার দেশের পুলিশ করেছে। এটা আমার দেশ না। আমার দেশ হলে আমার থানায় বসে, যেখানে আইন থাকে, সেখানে বসে আমি এত বেশি হ্যারাজ হতাম না। আমি মানুষের দেশে থাকি। এটা যদি আমার দেশ হতো, তাহলে তো আমি সেফ থাকতাম। আমি যখন বারবার কান্না করে বলতেছি আমার বাসায় একটা ফোন দিতে দেন, আমি বাসায় যাব। দিচ্ছে না, বলে কী, নেতা হবা? নেতা হতে হলে জেল খাটতে হয়। আমি তখনো জানি না, তাদের ফোনে আমার ছবি দেখতেছে! আর বলতেছে, জাতীয় নেতার কাপড় খোল তো, জাতীয় নেতাকে দেখ তো। তখনো আমি বুঝতেছি না আমারে দেখতেছে।’
মরিয়ম মান্নান ফারাহ বলেন, ‘আমি সবার সামনে সবার জন্য এসেছিলাম। আমি আমার পেটের দায়ে আসি নাই। আসছিলাম কুকুরের মতো মরে যাচ্ছে ছেলেগুলো, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আমি সবার সামনে যেমন এসেছিলাম আজকে আমি তেমন সবার সামনে চলে যাব। আমাকে সবাই জিজ্ঞেস করছে আমি কী চাই? বলছে আমাকে সম্মান দিবে! আমাকে লাঞ্ছিত করা হইছে, আমাকে সম্মান দিবে! আমি যে কারণে আসছিলাম, আন্দোলনে আসছিলাম না? যদি আমাকে সম্মান দিতে হয়, প্রজ্ঞাপন যেন আমাকে এনে দেয়। আমার গা থেকে যেন বেশ্যা ট্যাগটা তুলে দেয়। এই ট্যাগ তুলে দিয়ে আমি সাধারণ ছাত্রী, এটা যেন বলে দেয়। আমি শিবির না, আমি জামায়াত না, এটা যেন তুলে দেয়। আমার আজকে কারো উদ্দেশে কিছু বলার নাই।’
এর আগে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এই মিছিলেও বাধা দেওয়া হয়েছে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন মৌসুমি নামের একজন। তিনি বলেন, ‘মিছিল করতে যেয়ে আজকে আমরা বাধার সম্মুখীন হয়েছি। সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে যখন আসি তখন ওরা নানা ধরনের কটূক্তি করে। আমরা জানি না ওরা কারা, ক্যাম্পাসের নাকি বাইরের। এরপর আমরা যখন মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে যাই, সেখানেও আমাদেরকে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। আমরা সেখানে ক্যাম্পাসের চাইতে বহিরাগত বেশি দেখি। পরে আমরা মিছিল নিয়ে এখানে (রোকেয়া হলের সামনে) আসতে বাধ্য হই। আমরা ক্যাম্পাসের এই বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি, আগামীতেও করব।’
এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি