বাংলাদেশ

জলাবদ্ধতায় নাকাল রাজধানীবাসী

রাজধানীতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নাস্তানাবুদ হচ্ছেন নগরবাসী। অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে নগরীর বেশকিছু পথঘাট। গতকাল সকালের দিকে সূর্যের আলোর বদলে হঠাৎ অন্ধকারে ঢেকে যায় রাজধানী। ঘরের বাইরে বের হলেই নাকাল হচ্ছেন জলজটে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো বরাবরের মতোই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জলাবদ্ধতার কারণে পরিবহণ সংকটেও পড়তে হয়েছে অনেককে।সরেজমিন দেখা যায়, পুরান ঢাকার জুরাইন রেলগেট, সূত্রাপুর থানার পাশের রোড, মিরপুর, বাংলামটর ও বঙ্গভবনের পাশের রাস্তাসহ রাজধানীর বেশকিছু এলাকার রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। মতিঝিল, পল্টন, প্রেস ক্লাব ও শনির আখড়ায় রাস্তার মাঝামাঝি কেটে ড্রেনেজলাইনে বসানো হচ্ছে বক্সকালভার্ট। এ কাজেও সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। বৃষ্টির পানিতে আবারো সেই বক্সকালভার্টগুলো পাশে থাকা মাটিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে ড্রেনগুলো আবারো খোঁড়া হচ্ছে। এতে কাজ শেষ করতে লাগছে সময়, বাড়ছে জনদুর্ভোগ। এ নিয়ে সূত্রাপুরের ব্যবসায়ী অমিত রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উন্নয়ন বা সংস্কার কাজের স্বার্থে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি হতেই পারে। কিন্তু যে কর্তৃপক্ষই তা করুক না কেন, নিয়ম রয়েছে কাজের সময়কাল ও সংক্ষিপ্ত বিবরণী সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের জানানো। এসবের কিছুই আমরা জানি না, তাই মহল্লার কেউই জানি না কবে কাজ শেষ হবে। গতকাল বুধবার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। নগরীর অলিগলি থেকে শুরু করে মূল সড়কগুলোতেও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এ কারণে নগরবাসীকে পড়তে হয়েছে চরম দুর্ভোগে। জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্বে থাকা ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন আর ঢাকা ওয়াসার কোনো কর্মীকে জলাবদ্ধ স্থানগুলোতে পাওয়া যায়নি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, উন্নয়ন কাজে নগরবাসীকে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হবে। এটি মেনে নেওয়ার মনমানসিকতা থাকতে হবে। তা না হলে উন্নয়ন কাজ করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, গত দুদিন লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে, এতে নিচু এলাকায় কিছুটা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে সেটি স্বাভাবিক। এরপরও জলাবদ্ধতা দূর করতে সিটি কর্পোরেশনের ইমার্জেন্সি রেন্সপন্স টিম মাঠে নেমেছে। পানি নিষ্কাশনে বিভিন্ন জায়গায় ম্যানহোলগুলোর ঢাকনা খুলে দিয়েছেন। বৃষ্টি থেমে গেলে এক ঘণ্টার মধ্যে জলাবদ্ধতা দূর হবে।
পুরান ঢাকার বাসিন্দা আব্দুস সোবহানের অভিযোগ নগরবাসী নিয়মিত ভ্যাট, ট্যাক্স দিলেও সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বিন্দুমাত্র সুযোগ-সুবিধা পায় না। জলাবদ্ধতা নিরসনে সংস্থাগুলোর হর্তাকর্তারা বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দিলেও সেটি বাস্তাবায়ন করেন না। বুলির চেয়ে কাজের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা কয়েক ফুট পানির নিচে চলে যায়। আর এসব ময়লা পানি শরীরে লাগলে গোসল করা ছাড়া উপায় থাকে না।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. শাকিল আক্তার বলেন, রাজধানীতে যতগুলো সেবা সংস্থা রয়েছে তারা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেন না। এটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কারণ কাজের জবাবদিহিতার অভাব। কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছামতো উন্নয়নমূলক কাজগুলো করছেন। সেখানে নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা ভাবা হয় না। এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে বিভিন্ন স্থানে আরও দুদিন বুধবারের মতোই ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে বার্তায়।

উল্লেখ্য, ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা ছিল ৩১ মের মধ্যে রাস্তার খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু এ নির্দেশনার পরও চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। ফলে বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি