শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের উত্তাল ঢেউ শুধু রাজধানীতেই থেমে নেই। ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। মীম ও রাজিবের মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদে ৪র্থ দিনে উত্তাল হয়ে পড়ে ঢাকা। আর সেই উত্তাল ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। বৃহস্পতিবার কার্যত ঢাকা ছিলো অচল। ঢাকার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে অভিভাবকরাও। ছাত্র বিক্ষোভের মূল দাবি ছিলো দুই শিক্ষার্থীর ঘাতকের ফাঁসি। অপর প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ। ছাত্রদের আন্দোলন ঠেকাতে গত বুধবার এক ঘোষণায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছিলো সরকার। কিন্তু এ ঘোষণা কোনো কাজে আসেনি। এতে যেন আন্দোলন আরও জোরালো হয়। ঢাকায় গতকাল গণপরিবহণের সংখ্যা ছিলো প্রায় শূন্যের কোঠায়। পরিবহণ বলতে শুধু প্রাইভেটকার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের দেখা মিলেছে। আর দু-একটি বিআরটিসি বাস চলতে দেখা যায়। এর বাইরে বেসরকারি কোনো গণপরিবহণ চলতে দেখা যায়নি। ঢাকা থেকে আন্তঃজেলা সড়কপথে বাস বন্ধ করে দেয় পরিবহণ শ্রমিকরা। তবে পরিবহণ মালিকদের দাবি, গত রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত তাদের প্রায় শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও ছয়টি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বাস বন্ধ রেখেছে তারা। এদিকে বিক্ষব্ধ শিক্ষার্থীরা যেন গতকাল ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটি পরিবহণের চালকের লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস যাচাই-বাছাই করেছেন তারা। লাইসেন্সবিহীন চালকদের গাড়ির বিরুদ্ধে সার্জেন্ট দিয়ে মামলা করিয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্যে বুধবার থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এবং ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট করে বাসের ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স যাচাই শুরু করেন ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সার্জেন্টরা। গতকাল বৃহস্পতিবার এই অভিযান আরও বৃহৎ আকারে চলে। এদিকে গণপরিবহণ সংকটে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন নগরবাসীসহ দেশের সকল জেলার যাত্রীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, বাসচালকদের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন তারা। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বাস বন্ধ রাখায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে জনমনে। রাইড শেয়ারিং অ্যাপের রাইডার ও ড্রাইভারদের সংখ্যাও গতকাল ছিলো অনেক কম। পায়ে হেঁটে দূর-দূরান্তের গন্তব্যে গিয়েেেছন অনেকে, এরপরও তারা চান শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলন চলমান থাকুক। এরপরও যন্ত্রদানবের বেপরোয়া আচরণ ও মনমানসিকতার পরিবর্তন হোক। সড়কে ফিরে আসুক শৃঙ্খলা। সাইন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার, পানি, স্যালাইন এবং বিস্কুট বিতরণ করতে দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎফুল্ল ও প্রেরণা সৃষ্টি হয়। ঢাকায় সকাল থেকেই বৃষ্টির মধ্যেও রাস্তায় নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা সড়ক অবরোধ করে উই ওয়ান্ট জাস্টিস, আমার ভাই কবরে-খুনি কেন বাইরে এবং নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন সেøাগান দিয়ে তাদের দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। পরিস্থিতি বলে দেয় ঢাকায় যেন অঘোষিত অবরোধ, অঘোষিত ধর্মঘট। তবে এ ধর্মঘটের আহ্বানকারী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। রাস্তায়ও তারা। এ দৃশ্য এবং পরিস্থিতি শুধু রাজধানীতেই নয়, এ চিত্র সারাদেশের। তবে কয়েকটি স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনারও খবর পাওয়া গেছে। ঢাকার মিরপুরে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। বিকাল ৪টার দিকে মিরপুর-১৩ ও ১৪ নম্বরের মাঝামাঝি স্থানে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় যুবলীগ কর্মীরা পুলিশের সাথে যোগ দেয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংষর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত জখম হয়েছে। ঢাকার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। আবার কোনো বাস এসব টার্মিনালে আসেনি। এতে ঢাকা থেকে প্রায় সব সড়কপথে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিবহণ মালিক শ্রমিকরা বলেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে কোনো বাস ছাড়া হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ছাত্রদের আন্দোলন ও দাবিকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে সেসব মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। তারা শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার আহ্বান জানান। নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। এছাড়া গতকাল নিহত মীমের বাবা জাহাঙ্গীর আলমও আন্দোলন বন্ধ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে ফেরার ঘোষণা দেয়নি। তাদের দাবি নিরাপদ সড়কের, যা দেশের প্রতিটি নাগরিকের চাওয়া। সরকার লিখিতভাবে পদক্ষেপ নিলেই তারা রাজপথ ছেড়ে দেবে বলে ঘোষণা দেয়। ফেনি শহরে আন্দোলনরত ৬ জন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবিরই সমাধান সড়ক পরিবহণ আইনে রয়েছে। যখন এই আইনের বাস্তবায়ন শুরু হবে, তখন রাস্তায় এই যে পাখির মতো, মাছির মতো মানুষ মরার প্রবণতা, এর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ হবে। কঠোর শাস্তি থাকলে সেখানে একটা সতর্কতা আসেই। আগামী সংসদ অধিবেশনে আমরা সড়ক পরিবহণ আইন পাস করিয়ে নিতে পারবো। জনস্বার্থে যা যা প্রয়োজন সব আইনে থাকবে।
এদিকে ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ ছিলো সারাদেশে। বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন-
বরগুনা : ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বরগুনার টাউনহল ও বরগুনা প্রেস ক্লাব সংলগ্ন সদর রোড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। এতে বন্ধ হয়ে যায় ওই দুই সড়কের যান চলাচল। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন যানবাহনে চেকিং করতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় বরগুনা পুলিশ সুপার বিজয় বসাক শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে সড়ক থেকে সরে যায় তারা। এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বলেন, বরগুনায় আন্দোলনরত সকল শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। এখন থেকেই তাদের সকল দাবি বাস্তবায়নে কাজ করবে বরগুনা জেলা পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এতে সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন কলেজ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের নানা সেøাগানে উত্তাল হয়ে ওঠে শহর। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গায় সড়কে অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে শহরের শহীদ হাসান চত্বর ও সরকারি কলেজের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় সড়ক দুটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের এই সমাবেশ থেকে নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ সারাদেশে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে অবস্থান তুলে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা সারাদেশে নিরাপদ সড়ক ব্যাবস্থা গড়ে তোলাসহ নিরাপদ সড়ক আইন সংস্কার করে যুগোপযোগী করার দাবি জানান।
কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় নিরাপদ সড়ক, ঘাতক বাস চালকদের ফাঁসি, মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য না দিতে, শিক্ষার্থীদের বাস ভাড়া অর্ধেক করতে এবং সড়কে নিরাপদ ভ্রমণে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শহরের মজমপুর গেটে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। স্কুল, কলেজ বন্ধ ঘোষণার পরও কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। মজমপুর গেট থেকে মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি খ- খ-ভাবে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে থানা মোড়ে শেষ হয়।
মেহেরপুর : নিরাপদ সড়ক ও শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশ নেয়।
নাটোর : নাটোরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে নাটোর প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারো প্রেস ক্লাবের সামনে ফিরে আসে। পরে সেখানে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ক্ষতিপূরণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
দিনাজপুর : দিনাজপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবিতে আন্দোলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শহরের লিলিমোড়ে এই আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবি করে।
বেরোবি : নিরাপদ সড়ক, ঘাতক বাসচালকদের বিচার, নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিসহ আন্দোলনরত স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১১টা থেকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন পার্কমোড়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী প্লেকার্ড প্রদর্শন করেন।
রাবি : সড়কে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বাসচালকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করাসহ সড়কে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে একটি মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা মিলিত হয়।এসময় ‘শোকে গোপাল ভাঁড়ও হাসে না, মন্ত্রী হাসে’ ‘রক্ত ঝরে রাজপথে, প্রশাসন নীরব থাকে’ এরকম বিভিন্ন প্লেকার্ড ধরে রাখে শিক্ষার্থীরা।
গাজীপুর : নিরাপদ সড়ক চাই ও নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গতকাল সকালে বিক্ষোভ করে। সকাল থেকেই উপজেলার আশপাশের এলাকার স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা চন্দ্রা এসে জড়ো হয়। পরে তারা সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের গাড়ির ও চালকদের লাইসেন্স দেখে গাড়ি ছাড়ে। ফলে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘলাইন হয়ে প্রকট যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে সড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ওই সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে থানা পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে যান চলাচল করতে থাকে।
টাঙ্গাইল : ‘নিরাপদ সড়ক চাই’সহ ৯ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক অবরোধ করে টাঙ্গাইলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল ১১টায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থান করে। পরে সেখান থেকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ নিরাপদ সড়ক চাইসহ বিভিন্ন স্লোগানে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ১১টা ৪০ মিনিট হতে ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাস মোড়ে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
গোপালগঞ্জ : নিরাপদ সড়কের দাবিতে গোপালগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল গোপালগঞ্জে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করে। বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কের উপর দাঁড়িয়ে হাতে হাত ধরে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ও সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে উভয় পাশে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। পরে পুলিশ গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়কের উপর থেকে উঠিয়ে দিলে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়।
ঝালকাঠি : নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঝালকাঠিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। গতকাল সকাল ১১টায় শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি শহর ঘুরে প্রেস ক্লাবের সামনে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন ও সমাবেশ। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
সিলেট : রাজধানী ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সারাদেশের বিভিন্ন স্থানের মতো সিলেটেও ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল বিকাল ২টা থেকে নগরীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও চৌহাট্টা পয়েন্টে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবিসহ ৯ দফা দাবিতে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। জড়ো হওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা পড়ুয়া বলে জানা গেছে। তারা নগরীর ব্যস্ততম চৌহাট্টা সড়কের চারটি রাস্তাই অবরোধ করে রাখে।
মুন্সীগঞ্জ : নিরাপদ সড়ক ও নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সিরাজদিখানে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া এলাকায় বিক্রমপুর আদর্শ ডিগ্রি কলেজ ও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সড়কে তারা অবস্থান করে। এ সময় কুচিয়ামোড়া থেকে দুই দিকে ২ কিমি যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পরে এ রুটের চলাচলরত যাত্রীরা। স্কুল কমিটির সভাপতি ও কেয়াইন ইউপি চেয়ারম্যান বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা অবরোধ উঠিয়ে নেয়।
হবিগঞ্জ : নিরাপদ সড়ক ও বাসচাপায় নিহত শিক্ষার্থীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধনসহ মিছিল করেছেন হবিগঞ্জের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১১টায় জেলা শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে মিছিল করে বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন যানবানের চালকদের লাইসেন্স যাচাই করেন। সমাবেশের একপর্যায়ে যানবাহনের চালকদের লাইসেন্সসহ ফিটনেস না থাকায় উত্তেজিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের দাবি জানায়।
নারায়ণগঞ্জ : বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ৯ দফার দাবিতে রূপগঞ্জে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার গোলাকান্দাইল চৌরাস্তা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি পরিবহণের ওপর হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। খবর পেয়ে স্থানীয় এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শান্ত করেন। এমপির আশ্বাসের ফলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।
যশোর : নিরাপদ সড়কের দাবিতে যশোরের দড়াটানায় অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে শহরের দড়াটানা ট্রাফিক আইল্যান্ডে ও সরকারি কলেজের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় শহরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ সারাদেশে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার দাবি জানায়।
বরিশাল : ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিচারসহ নয় দফা দাবি আদায়ে বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে নগরীর চৌমাথা এলাকার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যায়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করে মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী রাজিব ও মীমের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌপরিবহণমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। গত পাঁচদিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে।
এদিকে ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ ছিলো সারাদেশে। বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন-
বরগুনা : ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বরগুনার টাউনহল ও বরগুনা প্রেস ক্লাব সংলগ্ন সদর রোড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। এতে বন্ধ হয়ে যায় ওই দুই সড়কের যান চলাচল। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন যানবাহনে চেকিং করতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় বরগুনা পুলিশ সুপার বিজয় বসাক শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে সড়ক থেকে সরে যায় তারা। এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বলেন, বরগুনায় আন্দোলনরত সকল শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। এখন থেকেই তাদের সকল দাবি বাস্তবায়নে কাজ করবে বরগুনা জেলা পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এতে সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন কলেজ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের নানা সেøাগানে উত্তাল হয়ে ওঠে শহর। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গায় সড়কে অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে শহরের শহীদ হাসান চত্বর ও সরকারি কলেজের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় সড়ক দুটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের এই সমাবেশ থেকে নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ সারাদেশে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে অবস্থান তুলে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা সারাদেশে নিরাপদ সড়ক ব্যাবস্থা গড়ে তোলাসহ নিরাপদ সড়ক আইন সংস্কার করে যুগোপযোগী করার দাবি জানান।
কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় নিরাপদ সড়ক, ঘাতক বাস চালকদের ফাঁসি, মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য না দিতে, শিক্ষার্থীদের বাস ভাড়া অর্ধেক করতে এবং সড়কে নিরাপদ ভ্রমণে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শহরের মজমপুর গেটে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। স্কুল, কলেজ বন্ধ ঘোষণার পরও কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। মজমপুর গেট থেকে মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি খ- খ-ভাবে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে থানা মোড়ে শেষ হয়।
মেহেরপুর : নিরাপদ সড়ক ও শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশ নেয়।
নাটোর : নাটোরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে নাটোর প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারো প্রেস ক্লাবের সামনে ফিরে আসে। পরে সেখানে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ক্ষতিপূরণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
দিনাজপুর : দিনাজপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবিতে আন্দোলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শহরের লিলিমোড়ে এই আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবি করে।
বেরোবি : নিরাপদ সড়ক, ঘাতক বাসচালকদের বিচার, নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিসহ আন্দোলনরত স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১১টা থেকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন পার্কমোড়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী প্লেকার্ড প্রদর্শন করেন।
রাবি : সড়কে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বাসচালকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করাসহ সড়কে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে একটি মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা মিলিত হয়।এসময় ‘শোকে গোপাল ভাঁড়ও হাসে না, মন্ত্রী হাসে’ ‘রক্ত ঝরে রাজপথে, প্রশাসন নীরব থাকে’ এরকম বিভিন্ন প্লেকার্ড ধরে রাখে শিক্ষার্থীরা।
গাজীপুর : নিরাপদ সড়ক চাই ও নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গতকাল সকালে বিক্ষোভ করে। সকাল থেকেই উপজেলার আশপাশের এলাকার স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা চন্দ্রা এসে জড়ো হয়। পরে তারা সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের গাড়ির ও চালকদের লাইসেন্স দেখে গাড়ি ছাড়ে। ফলে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘলাইন হয়ে প্রকট যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে সড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ওই সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে থানা পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে যান চলাচল করতে থাকে।
টাঙ্গাইল : ‘নিরাপদ সড়ক চাই’সহ ৯ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক অবরোধ করে টাঙ্গাইলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল ১১টায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থান করে। পরে সেখান থেকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ নিরাপদ সড়ক চাইসহ বিভিন্ন স্লোগানে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ১১টা ৪০ মিনিট হতে ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাস মোড়ে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
গোপালগঞ্জ : নিরাপদ সড়কের দাবিতে গোপালগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল গোপালগঞ্জে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করে। বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কের উপর দাঁড়িয়ে হাতে হাত ধরে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ও সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে উভয় পাশে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। পরে পুলিশ গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়কের উপর থেকে উঠিয়ে দিলে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়।
ঝালকাঠি : নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঝালকাঠিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। গতকাল সকাল ১১টায় শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি শহর ঘুরে প্রেস ক্লাবের সামনে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন ও সমাবেশ। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
সিলেট : রাজধানী ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সারাদেশের বিভিন্ন স্থানের মতো সিলেটেও ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল বিকাল ২টা থেকে নগরীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও চৌহাট্টা পয়েন্টে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবিসহ ৯ দফা দাবিতে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। জড়ো হওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা পড়ুয়া বলে জানা গেছে। তারা নগরীর ব্যস্ততম চৌহাট্টা সড়কের চারটি রাস্তাই অবরোধ করে রাখে।
মুন্সীগঞ্জ : নিরাপদ সড়ক ও নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সিরাজদিখানে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া এলাকায় বিক্রমপুর আদর্শ ডিগ্রি কলেজ ও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সড়কে তারা অবস্থান করে। এ সময় কুচিয়ামোড়া থেকে দুই দিকে ২ কিমি যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পরে এ রুটের চলাচলরত যাত্রীরা। স্কুল কমিটির সভাপতি ও কেয়াইন ইউপি চেয়ারম্যান বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা অবরোধ উঠিয়ে নেয়।
হবিগঞ্জ : নিরাপদ সড়ক ও বাসচাপায় নিহত শিক্ষার্থীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধনসহ মিছিল করেছেন হবিগঞ্জের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১১টায় জেলা শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে মিছিল করে বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন যানবানের চালকদের লাইসেন্স যাচাই করেন। সমাবেশের একপর্যায়ে যানবাহনের চালকদের লাইসেন্সসহ ফিটনেস না থাকায় উত্তেজিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের দাবি জানায়।
নারায়ণগঞ্জ : বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ৯ দফার দাবিতে রূপগঞ্জে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার গোলাকান্দাইল চৌরাস্তা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি পরিবহণের ওপর হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। খবর পেয়ে স্থানীয় এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শান্ত করেন। এমপির আশ্বাসের ফলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।
যশোর : নিরাপদ সড়কের দাবিতে যশোরের দড়াটানায় অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে শহরের দড়াটানা ট্রাফিক আইল্যান্ডে ও সরকারি কলেজের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় শহরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ সারাদেশে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার দাবি জানায়।
বরিশাল : ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিচারসহ নয় দফা দাবি আদায়ে বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে নগরীর চৌমাথা এলাকার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যায়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করে মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী রাজিব ও মীমের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌপরিবহণমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। গত পাঁচদিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে।