বাংলাদেশ

সংলাপের পথ বিএনপিই বন্ধ করেছে: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংলাপের পথ বিএনপি নিজেরাই বন্ধ করেছে। এখন আর তাদের সঙ্গে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের ১১ দফা প্রস্তাবনা, জনগণেরই প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথিরি বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংঘাতের উস্কানি দিয়ে সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয় না। সমঝোতা বা সংলাপ আওয়ামী লীগই চেয়েছিল। কিন্তু, তার পথ বিএনপিই নষ্ট করেছে। ছেলের মৃত্যুর খবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহানুভূতি জানাতে ছুঁটে গেলে আপনি (খালেদা জিয়া) তাকে দরজা থেকে ফিরিয়ে দেন। আপনি শুধু দরজাই বন্ধ করেননি, সমঝোতা বা সংলাপের রাস্তাও সেদিনই বন্ধ করে দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপিও এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি তাদের সময় নির্বাচনে যে কারচুপি করেছিল, আওয়ামী লীগ তা কখনই করবে না। জালিয়াতি করে ক্ষমতায় আসার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই।’

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিএনপির সংলাপ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের উপকার এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার কোনো ইচ্ছা বিএনপির নেই। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রথমে সংলাপ করে তারা মনে করেছিল নিজেদের স্বার্থ হাসিল হবে। কিন্তু, যখন তারা বুঝতে পারল তা হবে না, তখন তারা এই সংলাপকে নাটক বলে আখ্যায়িত করল।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংলাপে বিএনপির দেওয়া প্রস্তাবগুলো নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে। বিএনপি শুধুমাত্র ক্ষমতায় যেতে এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে।’

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগুন, সন্ত্রাসের রাজনীতি বিএনপি করে। আওয়ামী লীগ না। খালেদা জিয়া যাতে নির্বিঘ্নে কক্সবাজার যেতে পারেন, সেটা আওয়ামী লীগও চেয়েছিল। কিন্তু, পথে তারা (বিএনপি) নিজেরাই হামলা, ভাংচুরের নাটক করে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। কিন্তু, জনগণ এখন সচেতন। আগুন রাজনীতি করে আর ক্ষমতায় ফেরা যাবে না।’

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান এইচটি ইমামের সভাপতিত্বে সেমিনারে সূচনা বক্তব্য দেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য সচিব ড. হাছান মাহমুদ। আরও বক্তব্য রাখেন- অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রমুখ।