বাংলাদেশ

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর কারাগারে, ৫১ জন রিমান্ডে

রমনা থানার দায়ের করা মামলা বিএনপির স্থায়ী কমিঠির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কে কারাগারে প্রেরণ, অনিদ্র ইসলাম অমিত ও আনিসুর রহমান খোকনের তিন দিনের রিমান্ড, সালাউদ্দিনসহ ৫১ জনের দুই দিন করে পুলিশ রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

বুধবার রমনা ও শাহবাগ থানার পৃথক দুই মামলায় তাদেরকে প্রিজন ভ্যান থেকে আসামিদের ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় আসামিদের হাজির করে রমনা থানার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড ও শাহবাগ থানার মামলায় সাত দিন করে রিমান্ড চায় পুলিশ।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিঠির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো রিমান্ড আবেদন করেনি।

আদালতে হাজির করার পর আসামিপক্ষে আইনজীবীগণ রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেয়ার জন্য আবেদন জানান।
আদালতের বিচারক মাহমুদুল হক উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে গয়েশ্বর চন্দ্রসহ সব আসামির জামিন নাকচ করেন এবং অনিদ্র ইসলাম অমিত ও আনিসুর রহমান খোকনকে তিন দিনের রিমান্ড ও সালাউদ্দিনসহ ৫১ জনকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এছাড়া মোহাম্মদ আলী, দোয়েল, হেনায়েত উল্লাহ, মিজানুর রহমান, জুল্লুর রহমান, নজরুল ইসলাম, রাহাদুল আহমেদসহ ১৬ জনকে শাহবাগ থানার মামলায় সাত দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত এদের প্রত্যেককে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া আসামী ফরিদউদ্দিন আহম্মেদ অসুস্থ থাকায় তার রিমান্ড আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন মোঃ সানাউল্ল্যাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, খোরশেদ আলম, আজিজুল ইসলাম বাচ্চু, মোঃ ইকবাল হোসেন, মোঃ মহসিন মিয়া, সৈয়দ জয়নাল আবদীন মেজবাহ, তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ, জিয়া উদ্দিন জিয়া, মোসলেহ উদ্দিন জসিম, ওমর ফারুক ফারুকী, নুরুজ্জামান তপন, মহিউদ্দিন চৌধুরী, মোশারফ হোসেনসহ শতাধিক আইনজীবী।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পি.পি কে.এম. সাজ্জাদুল হক শিহাব, কবির আহাম্মদ রুমী, বিশেষ পি.পি সালমা হাই টুনী।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরাকে কেন্দ্র করে হাইকোর্ট এলাকায় দলটির নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা ওবায়দুল হক নাসির (৪০), সোহাগ মজুমদার (৩৮) ও মিলন (৩৮) নামের তিনজনকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে রাখে পুলিশ। হাজিরা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বাসায় ফেরার পথে একদল বিএনপিকর্মী ওই প্রিজন ভ্যানে ভাঙচুর চালিয়ে আটক নেতাদের ছিনিয়ে নেয়। ওই ঘটনার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে তার কর্মীদেরকে মদদ দেন।

আসামিপক্ষ আইনজীবীগণ আদালতে বলেন, মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গয়েশ্বর রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলামকেও তার শান্তিনগরের বাসা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করে। আসলে তারাসহ অন্যান্য যারা আছেন কেউ মামলার কথিত ঘটনার সাথে জড়িত নন। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে পুলিশ নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে। আসলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নাই। এই অভিযান গণগ্রেফতারের। পুলিশ সরকারের মদদে এই গণগ্রেফতার করেছে। সেজন্য এ মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলাগুলো দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিনিয়র আইনজীবী মোঃ মহসীন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন গয়েশ্বর চন্দ্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ কোনো রিমান্ড আবেদন করেনি। তবে পুলিশের উচিত ছিল তাকে আদালতে সামনে হাজির করা। কিন্তু তা করেনি।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি