বাংলাদেশ

বিজেপি আশা করে আ’লীগই ক্ষমতায় আসবে: কাদের

কোনো বিদেশি শক্তি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসাবে না বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ভারত সফর শেষে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে তিনি একথা জানান। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতাদের সঙ্গে একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কি কথা হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন সম্পর্কে নরেন্দ্র মোদিকে কোনো কথা বলতে শুনিনি। ইলেকশন নিয়ে কোনো কথা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘কথা হয়েছে আমাদের উভয়ের মধ্যে যে সম্পর্ক, এই সম্পর্ককে পার্টি টু পার্টি সরকার টু সরকারের মধ্যে কিভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় এ নিয়ে। বাংলাদেশে নির্বাচন হবে, এতে ভোট দিবেন বাংলাদেশের জনগন। এখানে ভারত কী করবে, ভারত কী আমাদের ক্ষমতায় বসাবে? জনগণ না চাইলে কী আমরা জোর করে থাকব?’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে জনগণ। কোনো বিদেশি শক্তি নয়। বিদেশি শক্তি আমাদের বন্ধু। কিন্তু, আমাদের পলিটিক্যাল ফেইথ, ইলেকট্রোরাল ফেইথ দ্যাট উইল বি ডিসাইডেড বাই দ্য ওয়ার্ক, ভোটার্স অ্যান্ড পিউপল।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনেও ভোটে জিতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে- এমন আশাবাদ বিজেপির নেতারা ডিনারে বসে করেছেন।’

কাদের বলেন, ‘২০০১ সালে আমরা হেরে গেছি, ভারত কী আমাদের জিতিয়েছে? তারা তো হস্তক্ষেপ করেনি। এবারো ইলেকশন হবে, ভারত হস্তক্ষেপ করবে না।’

তিনি বলেন, ‘বিজেপি নেতারা কেউ কেউ হয়ত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ডিনারে বসে। তারা বলেন, আশা করছি আপনারা আবার ক্ষমতায় আসবেন। এটা তো একটা কার্টেসি, বলতেই পারে। আমরা একটা দল গেছি, এটা আমাদের বলতেই পারে। এটা কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেননি।’

বিজেপির নেতারাও বাংলাদেশ সফরে আসবেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিজেপির সাধারণ সম্পাদককে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। সেখানে ব্যস্ততার পর আমরা আশা করছি, ভারতের জনতা পার্টির একটি প্রতিনিধিদল আমাদের এখানে আসবে।’

তিস্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তিস্তা, রোহিঙ্গা কোনো কিছুই বাদ দেইনি। কেন তিস্তা চুক্তি করতে হবে এটাও আমরা বলেছি। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে এটা করতে হবে। তিস্তা আমাদের বহু মানুষের জন্য লাইফ, বিষয়টি আমরা বলেছি। পানির জন্য হাহাকার আছে, সেটিও বলেছি।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমরা বলেছি- আপনি ৬৮ বছর এবং চুক্তি সম্পাদনের ৪১ বছর পর ডায়নামিক ও ক্যারিসমেটিক নেতৃত্বে দিয়ে সীমান্ত চুক্তি করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, আপনি তিস্তার সমাধান করবেন। তাহলে জনমনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হবে। পিপল টু পিপল কানেকটিভিটি কন্ট্রাক্ট আরও শক্তিশালী হবে।’

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি