আন্তর্জাতিক

জ্বালানি যুদ্ধবিরতির পরও রুশ হামলায় ইউক্রেনে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অন্ধকারে বহু এলাকা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’র পরও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় রুশ হামলা অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের ইজিউম শহরের বাসিন্দারাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে পড়েছেন। সোমবার, ১২ অক্টোবর ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, আগের দিন ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সমঝোতার কথা ঘোষণা করলেও রুশ হামলা থামেনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাজধানী কিয়েভ ও খারকিভের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা উক্রিনফর্মের তথ্য অনুযায়ী, রুশ হামলায় ইজিউম শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া শহরের উত্তরে একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে একজন আহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর আগে রোববার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে অবিলম্বে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই পক্ষই একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে এই সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত তিনি প্রকাশ করেননি। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ইউক্রেনে হামলার খবর সামনে আসায় যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলেনস্কি জানান, কিয়েভের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে রাজধানীর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। এরপর পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন অবকাঠামোতেও হামলার খবর পাওয়া যায়। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটির বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় ছিল কিয়েভ। রাশিয়া সমঝোতায় সম্মতি দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে মস্কোর কাছ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করে, তাহলে কিয়েভও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা বন্ধ রাখতে প্রস্তুত। তবে এ জন্য কার্যকর ও পারস্পরিক সমঝোতা প্রয়োজন বলে তিনি জোর দিয়েছেন। জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও শীতকালীন প্রস্তুতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ঘরবাড়ি নয়, হাসপাতাল, পানি সরবরাহ এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং দুই পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ। আপাতত ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।