লস এঞ্জেলেস

আবাসন ও নগরায়ণে নতুন ভীতি হয়ে এল করোনা

ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্রমেই বেড়ে চলা জীবনধারণের ব্যয় কমাতে দশক ধরে ভাবছিলেন সংশ্লিষ্টরা। ঘনবসতি পূর্ণ বেশি বেশি আবাসিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা মাথায় ঘুরছিল তাদের। যাতে কিছুটা হলেও বসবাস খরচের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরা যায়। তবে এর মধ্যেই নতুন মাথাব্যথা হয়ে এল করোনাভাইরাস। যেখানে দূরত্ব বজায় রাখাই ভাইরাস সংক্রমণ রোধের বড় উপায়।

যারা সবসময়ই আগ্রাসী নগরায়ণের বিরোধী ছিলেন তারা নিজেদের এখন সঠিক বলে দাবি করছেন। অপরদিকে নগরায়ণ বিস্তার ঘটাতে চাইতেন এমন লোকেরা পড়েছেন আশঙ্কায়। তাদের মতে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে মানুষ নগর ছেড়ে দূরে বসতি করার চিন্তাভাবনা করবে।


আমেরিকার সবচেয়ে জনবহুল শহর নিউ ইয়র্কে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছেন ১১ হাজার ১শ জন। শহরের মেয়র এন্ড্রিউ কুউমো এ বিপর্যয়ের জন্য নগরীর বহুতল ভবন ও ব্যস্ত সাবওয়েগুলোকে দায়ী করেছেন। 

তিনি বলেন, এত বেশি সংক্রমণ আমরা কেন দেখছি? এটা খুবই সহজ। কারণ এখানের ঘনবসতি।

যদিও সিউল, টোকিও কিংবা হংকং এর দিকে তাকালে এ বিষয়ে দ্বিমত স্পষ্ট হবে। যেমনটি ভাবছেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট সিনেটর স্কট ওয়েইনার। তিনি রাজ্যে ঘনবসতি বৃদ্ধির জন্য জোর দিয়ে আসছেন। পরিবহনের ট্রানজিট স্পট ও জব সেন্টারগুলোর আশেপাশে অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য।

স্কট ওয়েইনার বলেন, নিউ ইয়র্কের মেয়র এন্ড্রিউ কুউমো ঘনবসতিকে দোষারোপ করছেন তা ঠিক নয়। ধীরগতিতে ব্যবস্থা নেওয়াই করোনাভাইরাস বেশি ছড়িয়েছেন তার শহরে।

এই সিনেটার আরও জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার গৃহায়ণ ও জলবায়ু বিষয়ক সমস্যার আশু কোনো সুরাহা নেই। সেগুলোকে মোকাবেলা করেই একক পরিবারের জন্য প্রয়োজন আরও দালান নির্মাণ।

এদিকে অনেকের মতেই কোনো কিছুকেই বিচ্ছিন্ন করে দেখা ঠিক নয়। নিম্নমধ্যবিত্তরা যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করে তাতে শ্বাসকষ্ট, উচ্চ-রক্তচাপ, ডায়াবেটিকসহ বিভিন্ন রোগে ভুগে তারা। আর তাই যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। অতি ঘনবসতি ও সামাজিক অসাম্যের মিশ্রণ এই দুর্গতি ডেকে এনেছে।

নগরায়ণ বিশেষজ্ঞ গ্লেসার বলেন, করোনা মহামারি স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমেই শহর নিরাপদ হবে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার বর্ধিত নগরায়ণে এখনই তিনি চিন্তিত নয় বলে জানান।


/এলএ বাংলা টাইমস/এন/এনইচ