যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট হলিউডে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হওয়ার পর স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এক প্রবীণ মালী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর লস অ্যাঞ্জেলেসে তার পরিবারকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছেন কমিউনিটির সদস্যরা।
আলবার্তো ক্যাব্রাল (৭৩) ১৫ বছর বয়সে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। প্রায় ছয় দশক ধরে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় বসবাস করে ওয়েস্টউড, ওয়েস্ট হলিউড ও হলিউড হিলস অঞ্চলে ল্যান্ডস্কেপার বা মালী হিসেবে কাজ করেছেন। প্রতিবেশী ও ক্লায়েন্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলেও তিনি কখনো কাজ ফাঁকি দেননি এবং স্থানীয় কমিউনিটির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছিলেন।
তার দীর্ঘদিনের ক্লায়েন্ট রুবি ইয়ামাস জানান, ক্যাব্রাল হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার পায়ের নিচের অংশ ও লেজের হাড়ে ফ্র্যাকচার হয় এবং পায়ে খোলা ক্ষত ছিল। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কাজ চালিয়ে যান।
তবে ক্যাব্রাল যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাস করছিলেন। ৭ জানুয়ারি তিনি যখন ইয়ামাসের ওয়েস্ট হলিউডের বাড়িতে কাজ করছিলেন, তখন ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টরা তাকে ঘিরে ধরে আটক করেন।
ইয়ামাস জানান, “তারা খুব আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে আসে। তিনি অনুরোধ করেন, ‘দয়া করে আমাকে স্পর্শ করবেন না, আমি আহত। আমি প্রতিরোধ করব না, শুধু দয়া করে আমাকে আঘাত করবেন না।’ পরে তারা কিছুটা নরম আচরণ করলেও যেভাবে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়, তা ছিল অত্যন্ত কঠোর।”
তার আটকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা ভেঙে পড়েন। ইয়ামাস কেটিএলএকে বলেন, “আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি। তিনি ১০ বছর ধরে আমাদের জন্য কাজ করেছেন। তিনি শুধু একজন কর্মী ছিলেন না—তিনি আমাদের কমিউনিটি ও বন্ধুদের অংশ ছিলেন।”
পরে ক্যাব্রালকে ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। নিজের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হন এবং মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ক্যাব্রাল ছিলেন তার ৯৭ বছর বয়সী মা এবং ৭০ বছর বয়সী দীর্ঘদিনের সঙ্গী গ্লোরিয়া ব্লাঙ্কোর প্রধান দেখভালকারী ও আয়ের একমাত্র উৎস।
ক্যাব্রালের বৈধ অবস্থান না থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ইয়ামাস বলেন, “এটি সাদা-কালো কোনো বিষয় নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার পড়াশোনা খুব সীমিত ছিল, ফলে এই ধরনের কাগজপত্রের জটিল প্রক্রিয়া সামলানো তার মতো মানুষের জন্য খুবই কঠিন।”
এদিকে, ক্যাব্রালের চিকিৎসা ও পরিবারের জীবনযাত্রার খরচে সহায়তার জন্য ইয়ামাস একটি গোপান্ডমি (GoFundMe) তহবিল গঠন করেছেন।
ক্যাব্রালের ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য কেটিএলএ যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে যোগাযোগ করেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম