লস এঞ্জেলেস

ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা, এক হাজার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চাপে সান আন্দ্রেয়াস ফল্ট

ক্যালিফোর্নিয়ার সান আন্দ্রেয়াস ফল্ট এবং সান জাসিন্টো ফল্ট জোনে গত এক হাজার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রার চাপ জমেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণার ফলাফল বড় ধরনের ভূমিকম্প বা ‘দ্য বিগ ওয়ান’-এর আশঙ্কা আরও জোরালো করেছে। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয় অব মানোয়ার গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণা সম্প্রতি জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: সলিড আর্থ-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ১৬০ বছর ধরে এই অঞ্চলে কোনো বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় ভূগর্ভে জমে থাকা চাপ ক্রমাগত বেড়েছে এবং এখন তা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষণার প্রধান লেখক লিলিয়ান বুরখার্ড বলেন, ফল্ট ব্যবস্থাটি বর্তমানে “অত্যন্ত সংকটজনকভাবে চাপগ্রস্ত অবস্থায়” রয়েছে। তার ভাষায়, “আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে যে একাধিক ফল্ট সেগমেন্টে চাপের মাত্রা গত এক হাজার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে উভয় ফল্ট ব্যবস্থাকে জড়িয়ে বড় ধরনের একটি ভূমিকম্প ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।” গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার কাজন পাস কখনও কখনও ‘ভূমিকম্পের গেট’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি বড় ভূমিকম্পকে দুই ফল্ট লাইনে একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকাতে পারে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই অঞ্চল দুই ফল্টে একযোগে ভূমিকম্প ঘটাতেও সহায়তা করতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, যদি সান আন্দ্রেয়াস ফল্ট এবং সান জাসিন্টো ফল্ট জোনে একই সময়ে বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে তার ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হবে। এতে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান বার্নার্ডিনো, রিভারসাইড এবং কোচেলা ভ্যালির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা গত এক হাজার বছরের ভূমিকম্পের ইতিহাস কম্পিউটার মডেলে বিশ্লেষণ করেছেন। স্থানচ্যুত পলিমাটি, রেডিওকার্বন ডেটিং এবং গাছের বলয়ের তথ্য ব্যবহার করে এই দীর্ঘমেয়াদি ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস পুনর্গঠন করা হয়েছে। তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নয়। লিলিয়ান বুরখার্ড বলেন, “আমরা বলতে পারছি না ঠিক কখন ভূমিকম্প হবে। তবে গবেষণাটি সম্ভাব্য ঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। বর্তমানে ফল্ট ব্যবস্থা অত্যন্ত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।” গবেষকদের মতে, এই ধরনের গবেষণা ভূমিকম্পের ঝুঁকি মূল্যায়ন, অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়ক হবে। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের পরবর্তী বড় ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, “আপনি যদি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বসবাস করেন বা ভ্রমণ করেন, তাহলে আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। কারণ ভূমিকম্প যে কোনো সময়, খুব সামান্য সতর্কতা দিয়েই আঘাত হানতে পারে।”   এলএবাংলাটাইমস/ওএম