লস এঞ্জেলেস

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় যৌনপাচারবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১০

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় যৌনপাচার চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক ফেডারেল অভিযানে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। "অপারেশন ব্রোকেন ব্লেড" নামে এই অভিযান চালানো হয় লস অ্যাঞ্জেলেসের কুখ্যাত ফিগুয়েরোয়া করিডর এলাকাকে কেন্দ্র করে। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানান, অভিযানটি একাধিক বাড়ি এবং স্টেডিয়াম ইন অ্যান্ড স্পাস নামে একটি মোটেলে পরিচালিত হয়। মোটেলটি দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের সেই ফিগুয়েরোয়া করিডরের খুব কাছেই অবস্থিত, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণের ঘটনা ঘটে আসছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মোটেলটির ৪৫ বছর বয়সী অন-সাইট ম্যানেজার মুকেশকুমার রামভাই আহির। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি মানবপাচারে জড়িত না হলেও যৌনপাচারের অর্থ লেনদেন থেকে লাভবান হওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের মামলা করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, মোটেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবৈধ অর্থ গোপন করা, হিসাব জালিয়াতি এবং ব্যাংকে অর্থ জমার তথ্য গোপনের মাধ্যমে যৌনপাচারের আয় আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অনেকেই কুখ্যাত হুভার গ্যাং-এর সদস্য বা সহযোগী। অভিযোগ অনুযায়ী, এই গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে ফিগুয়েরোয়া করিডর এলাকায় যৌনপাচার ও পতিতাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করত। বুধবার প্রকাশিত ফেডারেল অভিযোগপত্রে ৫১ জন ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনপাচার, জোরপূর্বক ও প্রতারণার মাধ্যমে যৌনপাচার, মাদক পাচার এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে আর্থিক ও মানসিকভাবে দুর্বল কিশোরী ও তরুণীদের টার্গেট করত। বিশেষ করে পালিয়ে যাওয়া শিশু বা ফস্টার কেয়ার ব্যবস্থায় থাকা মেয়েদের বিলাসবহুল জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা হতো। পরে ভয়ভীতি, নির্যাতন ও সহিংসতার মাধ্যমে তাদের যৌনপাচারে বাধ্য করা হতো। অনেককে অক্সিকোডন ও অ্যামফেটামিনের মতো মাদকে আসক্ত করে শোষণ করা হতো। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কিছু দালাল তাদের ভুক্তভোগীদের শরীরে জোর করে দাগ (ব্র্যান্ডিং) করে দিত। অনেক নারীকে নির্মমভাবে মারধর করা হতো। এমনকি একজন ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর পর একই রাতেই আবার যৌনকাজে বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (LAPD) জানিয়েছে, গত বছর শুধু ফিগুয়েরোয়া করিডর এলাকা থেকেই ৫৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে উদ্ধার করা হয়। আর চলতি বছর এখন পর্যন্ত ওই এলাকা থেকে ৭০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যৌনপাচারের সঙ্গে জড়িত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানবপাচার ও যৌন শোষণ বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।     এলএবাংলাটাইমস/ওএম