লস এঞ্জেলেস

ক্যালিফোর্নিয়ায় ঐতিহাসিক সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা, হুমকিতে থাকা প্রজাতির বিস্তারে নতুন আশা

ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে সামুদ্রিক কচ্ছপের দুটি ঐতিহাসিক বাসা আবিষ্কৃত হওয়ায় হুমকিতে থাকা এই প্রজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টির সিল বিচ ও হান্টিংটন বিচে অলিভ রিডলি প্রজাতির দুটি কচ্ছপ ডিম পাড়ার পর বিজ্ঞানীরা ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রথম নথিভুক্ত প্রাকৃতিক বাসা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রথম কচ্ছপটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিল বিচের কাছে বালুর মধ্যে গর্ত করে ডিম পাড়ে। তিন দিন পর হান্টিংটন বিচ পিয়ারের কাছে আরেকটি অলিভ রিডলি কচ্ছপকে ডিম পাড়তে দেখা যায়। পরে ছবি বিশ্লেষণ করে কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন, দুটি ঘটনায় দুটি আলাদা কচ্ছপ জড়িত ছিল। সাধারণত অলিভ রিডলি কচ্ছপ মেক্সিকো, নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা ও পানামার মতো উষ্ণ অঞ্চলের উপকূলে ডিম পাড়ে। অ্যাকুয়ারিয়াম অব দ্য প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফরি ফ্লোকেন বলেছেন, ডিমগুলো সফলভাবে ফুটে বাচ্চা কচ্ছপগুলো বড় হয়ে একদিন যদি আবার একই সৈকতে ফিরে এসে ডিম পাড়ে, তাহলে এই ঘটনা প্রজাতিটির বিস্তার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, কচ্ছপগুলোর নতুন এলাকায় বংশবিস্তার শুরু করার একটি সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে এই অস্বাভাবিক উত্তরমুখী যাত্রার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণ পানি, শক্তিশালী এল নিনো, সমুদ্রের স্রোত, খাবারের প্রাপ্যতা কিংবা সাম্প্রতিক ঝড়—একাধিক কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্র ও বালুর তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি ঐতিহ্যগত ডিম পাড়ার সৈকত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও কচ্ছপগুলোর নতুন এলাকায় যাওয়ার একটি কারণ হতে পারে। বর্তমানে দুটি বাসাই ঘের দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে এবং স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল কর্মকর্তারা সেগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন। সাধারণত অলিভ রিডলি কচ্ছপের ডিম ফুটতে ৪৫ থেকে ৬০ দিন সময় লাগে। কর্মকর্তারা সমুদ্রসৈকতে আসা মানুষকে বাসার কাছাকাছি না যেতে এবং সুরক্ষা বেড়া বা সতর্কতামূলক চিহ্নে হাত না দিতে অনুরোধ করেছেন। অলিভ রিডলি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সামুদ্রিক কচ্ছপ প্রজাতিগুলোর একটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এটি ‘থ্রেটেনড’ বা হুমকিতে থাকা প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত। কচ্ছপের ডিম ও বাচ্চাদের টিকে থাকা কঠিন হওয়ায় এখন নজর মূলত এই দুটি বাসা থেকে কতগুলো বাচ্চা সফলভাবে সমুদ্রে পৌঁছাতে পারে, সেদিকে। এই ঘটনাটি একবারের ব্যতিক্রম নাকি ভবিষ্যতে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে আরও এমন বাসা দেখা যাবে, তা সময়ই বলে দেবে।