লস এঞ্জেলেস

নিজের সাবেক স্কুলেই প্রাণঘাতী হা মলা, ওরেগনে তিন শিশু ও শিক্ষক নি হ ত, অভিযুক্ত কিশোরও মৃ ত

ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গু লি চালিয়ে তিন শিশু ও এক শিক্ষককে নি হ ত করার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরের পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। ১৬ বছর বয়সী গ্রিফিন জে. জন দ্বিতীয় একসময় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে এই প্রাণঘাতী হা মলার ঘটনা ঘটে। এতে আরও এক শিশু ও এক শিক্ষক গুরুতর আহত হন। পরে বিদ্যালয়ের ভেতরে এক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দার হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত কিশোর গু লিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। পুলিশ জানায়, গ্রিফিন বেন্ড শহরের বাসিন্দা। সে আগে সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে পড়ত এবং সেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ছিল। তবে ঘটনার সময় সে আর ওই স্কুলে বা বেন্ড-লাপাইন স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ছিল না। হা মলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার কিছু আগে ঘটনাটি শুরু হয়। পুলিশপ্রধান মাইক ক্রান্টজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে এক গাড়িচালক ফোন করে জানান, লম্বা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এক ব্যক্তি তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে একাধিকবার গু লি চালিয়েছে। গাড়িটিতে তিনটি গু লি লাগে। এর কিছুক্ষণ পরই বিদ্যালয়ের ভেতরে বন্দুকধারী প্রবেশ করেছে বলে জরুরি নম্বর ৯১১-এ একের পর এক ফোন আসতে থাকে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধ দরজার কাচে কয়েকবার গু লি চালিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে অভিযুক্ত। এরপর প্রবেশপথের পাশের একটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে সে গু লি চালায়। ওই কক্ষটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হতো। পুলিশপ্রধানের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট প্রায় ১৫ রাউন্ড গু লি চালানো হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুপুর ১টা ১ মিনিটে লকডাউন জারি করে। এর এক মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হা মলায় পাঁচ, আট ও ১১ বছর বয়সী তিন শিশু এবং ২৫ বছর বয়সী শিক্ষক মেঘান ল্যামবার্ট নি হ ত হন। নিহত শিশুদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী রোয়াম সামারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি দুই শিশুর পরিবারের অনুরোধে তাদের নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া সাত বছর বয়সী এক শিশু এবং ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষক গুরুতর আহত হন। আহত শিক্ষক বেকি ড্রুরির অবস্থা নিয়ে তাঁর পরিবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও চিকিৎসা ও সুস্থতার দিকেই এখন মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে। এই হা মলার সময় দুই ব্যক্তির ভূমিকা আলোচনায় এসেছে। পুলিশ জানায়, বিদ্যালয়ে প্রবেশ করা কিশোরকে অনুসরণ করে ভেতরে যান ৩৬ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা কাইলুব জিয়ামাঙ্কো। সেখানে তিনি অভিযুক্তকে গু লি করে থামান। তাঁর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়ামাঙ্কোর দুই মেয়ে ওই বিদ্যালয়ে পড়ে। তিনি ঘটনার সময় কাছাকাছি গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং গোলমাল শুনে বিদ্যালয়ের দিকে এগিয়ে যান। অন্যদিকে, এক শিক্ষকও অভিযুক্তকে মাটিতে ফেলে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশপ্রধানের মতে, তাঁদের সাহসী পদক্ষেপে আরও প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব হয়ে থাকতে পারে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কিশোরটি কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি পেয়েছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হা মলায় ব্যবহৃত পাম্প-অ্যাকশন শটগানটি তার মা কিনেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ত্রটি কীভাবে কিশোরের হাতে পৌঁছায়, তা এখনো তদন্তাধীন। তার ফোন, কম্পিউটার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন কার্যক্রমও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে এখনো কোনো উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা হয়নি। ঘটনার পর বেন্ড শহরে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের বাইরে ফুল, মোমবাতি ও খেলনা রেখে নিহতদের স্মরণ করছেন মানুষ। বৃহস্পতিবার রাতে ড্রেক পার্কে মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে বহু মানুষ অংশ নেন। শুক্রবার বেন্ড-লাপাইন স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সব স্কুলের ক্লাস, কার্যক্রম ও খেলাধুলা বাতিল করা হয়। অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিনা কোটেক নিহতদের স্মরণে শুক্রবার সরকারি ভবনগুলোতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেন। এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা, আগ্নেয়াস্ত্রে কিশোরদের প্রবেশাধিকার এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হা মলার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।