ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের হান্টিংটন বিচে অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ার ও উপকূলীয় বন্যায় ১১৪টি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির কারণে ছয়টি বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেখানে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। এদিকে জোয়ারের পানি আপাতত নেমে গেলেও নভেম্বরে আরও উচ্চ জোয়ার এবং বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছে শহর কর্তৃপক্ষ।
গত সপ্তাহে কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারের কারণে হান্টিংটন বিচের উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়। বিশেষ করে সানসেট বিচ ও হান্টিংটন হারবার এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। সমুদ্রের পানি ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের সড়কে ঢুকে পড়ে। এতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় মহাসড়কের (প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ে) কয়েকটি অংশও বন্ধ করে দিতে হয়।
শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ১১৪টি স্থাপনার মধ্যে ছয়টি বাড়িতে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। এসব বাড়িতে হলুদ সতর্কতামূলক চিহ্ন লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রের লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে একটি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর একটি স্থাপনায় আগুন লাগে।
অস্বাভাবিক এই পরিস্থিতির কারণে ২৬ অক্টোবর শহর কর্তৃপক্ষ স্থানীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। এরপর উপকূলীয় এলাকায় জরুরি সেবা ও উদ্ধারকর্মীদের মোতায়েন করা হয়। বন্যার পানি ঠেকাতে বালুর বাঁধ তৈরি, বালুর বস্তা স্থাপন, পানি নিষ্কাশনের পাম্প প্রস্তুত রাখা এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে এসব উদ্যোগের পরও বেশ কিছু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে।
শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জোয়ারের উচ্চতা ৮ দশমিক ২০ ফুটে পৌঁছেছিল। বিশেষ করে হান্টিংটন হারবার ও সানসেট বিচের নিচু এলাকাগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় মহাসড়কের একটি অংশও বন্ধ রাখা হয়েছিল। জরুরি যানবাহন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল নিশ্চিত করতে সড়কে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
শুক্রবারের মধ্যে জোয়ারের পানি অনেকটাই নেমে গেলেও বিপদ শেষ হয়নি বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। শহরের এক বিবৃতিতে সানসেট বিচ, হান্টিংটন হারবার এবং অন্যান্য নিচু উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাড়িঘরের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পরীক্ষা করা, বালুর বস্তা সংগ্রহ, দুর্বল জায়গা সুরক্ষিত করা এবং পরিবারের জরুরি পরিকল্পনা পর্যালোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের বড় কারণ, নভেম্বরের শেষ দিকে এ সপ্তাহের তুলনায় আরও উঁচু জোয়ার হতে পারে। ডিসেম্বরেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্যাংকসগিভিংয়ের সময় জোয়ারের উচ্চতা ৮ দশমিক ৮ ফুট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বড়দিনের সপ্তাহে তা ৯ ফুটের কাছাকাছি হতে পারে।
এই উচ্চ জোয়ারের সঙ্গে শক্তিশালী ঝড় যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলি ক্যাম্পাসের অধ্যাপক ক্রিস্টিনা হিলের মতে, এ সপ্তাহে দেখা বন্যার পানির সঙ্গে আরও এক ফুট পানি যুক্ত হলে এমন অনেক এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে বাসিন্দারা আগে কখনো এত পানি দেখেননি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো পরিস্থিতি উপকূলীয় পানির উচ্চতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। এর সঙ্গে পূর্ণিমা বা অমাবস্যার সময় হওয়া অস্বাভাবিক উচ্চ জোয়ার যুক্ত হলে উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়ে। ফলে হান্টিংটন বিচসহ অরেঞ্জ কাউন্টির অন্যান্য উপকূলীয় শহরকেও আগামী কয়েক মাসের জন্য প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যা থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের উচ্চ জোয়ার মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পর্যালোচনা এবং সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।