প্রবাস

টেক্সাসে বাংলাদেশির হাতে কৃষ্ণাঙ্গ দুর্বৃত্ত নিহত

টেক্সাসে বাংলাদেশীর গুলিতে এক কৃষ্ণাঙ্গ দুর্বৃত্ত নিহত হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে হিউস্টন সিটির বাফেলো স্পীডওয়ে এবং ওয়েস্ট ওরেম এলাকায় অবস্থিত সানী’জ ফুডমার্টে এ ঘটনা ঘটে।

স্টোরের সার্ভিলেন্স ভিডিও’র উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, নিহত লোকটি কাউন্টারের পেছনে যায় এবং এরপর ভিডিওতে আর দেখা যায়নি অর্থাৎ ভিডিও’র ফ্রেমের বাইরে যান। তবে গুলির শব্দের সাথে সাথে ঐ স্টোরের এক গ্রাহক দৌড়ে বাইরে যান-এটি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। মাইকেল লাবম নামক ঐ গ্রাহক কয়েক ফুট দূর থেকে তা প্রত্যক্ষ করেন।

নিহত লোকটি সিগারেট চায়, কিন্তু মূল্য পরিশোধ করবেন না। এ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছিল। সিগারেটের প্যাকেট নিয়ে টানাটানির এক পর্যায়ে সে ম্যানেজার পলকের পেছনে যায় বলেও প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশকে জানায়।

এই স্টোরের অপর ম্যানেজার (ঘটনার সময় স্টোরে ছিলেন না) সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে জানান যে, ক্যাশ কাউন্টারের পেছনে একটিমাত্র দরজা এবং ছোট্ট জায়গা রয়েছে। বিনামূল্যে সিগারেট না পেয়ে ক্ষুব্ধ লোকটি ঐ স্থানে ঢুকে পড়ায় নিতান্তই আত্মরক্ষার্থে সে গুলি চালিয়েছে-এটি চরম সত্য। যদিও এমন কোন পরিস্থিতি হলে সাথে সাথে ৯১১ এ ফোন করার নির্দেশ রয়েছে স্টোর মালিকের।

মাইকেল লাবম স্থানীয় মিডিয়াকে বলেন, কাউন্টারের পেছনে যাওয়াটা কোনভাবেই উচিত হয়নি।

৩৪ বছর বয়েসী ম্যানেজার পলক অক্ষত রয়েছেন এবং পুলিশ বিস্তারিতভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। ৩ নভেম্বর প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী গুলিবর্ষণের জন্যে পলককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাকে ছেড়ে দেয়া হলেও তার বিরুদ্ধে মামলা চলবে কিনা সেটি নির্দ্ধারিত হবে গ্র্যান্ডজুরির সিদ্ধান্তে।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে যে, এই স্টোরের মালিক হচ্ছেন বাংলাদেশী মোহাম্মদ হানিফ এবং গুলিবর্ষণকারি ম্যানেজার পলকের বাড়ি নোয়াখালী অঞ্চলে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, নিউইয়র্ক, মিশিগান, জর্জিয়া, কানেকটিকাট, ওয়াশিংটন মেট্র এলাকাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডজনখানেকের অধিক বাংলাদেশী কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ অথবা ছুরিকাঘাতে নিহত হন। স্টোর থেকে মালালাল চুরি, মূল্য না দিয়ে জোরপূর্বক পণ্য নেয়া, নগদ অর্থ লুটে বাধা দেয়ার কারণে এসব বাংলাদেশীকে খুন করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে হিউস্টনের এই পলক আত্মরক্ষার্থে চরম এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন বলে অনেকে মনে করছেন।


এলএবাংলাটাইমস/এএল/এলআরটি