ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ধর্মীয় নেতার পরিচয়ে নারী ও শিশুদের ওপর বছরের পর বছর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ২২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ৫৮ বছর বয়সী সানসু বি ভ্যাং ‘কেভ ন্তসিগ লিজ নিয়াম কি তিয়াম ভাজ লিস থুম’ নামে একটি হামং ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির নামের অর্থ প্রায় "মায়ের প্রতি বিশ্বাস"। সংগঠনটি প্রথমে উইসকনসিনে গড়ে উঠলেও পরে ফ্রেসনো এবং এরপর ওরোভিল শহরে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে অনুসারীরা একটি ধর্মীয় কমিউনিটি ও মন্দির নির্মাণের কাজ করছিলেন।
তদন্তে জানা যায়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে পরিবারগুলো ওই সংগঠনে যোগ দিতে সেখানে চলে আসে। অনুসারীরা ভ্যাংকে একজন নবী বা আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে বিশ্বাস করতেন। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি ভয়ভীতি, হুমকি ও ধর্মীয় প্রভাব খাটিয়ে সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করতেন।
আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে দেখা যায়, এক ভুক্তভোগী ৮ থেকে ১০ বছর বয়সের মধ্যে বারবার যৌন নির্যাতনের শিকার হন। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া দুই নারী আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, ভ্যাং তাদের ধর্ষণ করেছিলেন। একজনের দাবি, তার পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অন্যজন বলেন, ভ্যাংয়ের দাবি না মানলে পুরো হামং সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে বলে তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আদালত ভ্যাংকে শিশু যৌন নিপীড়নের আটটি এবং ধর্ষণের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। এসব অপরাধ তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নিজের নারী অনুসারীদের ওপর চালিয়েছিলেন বলে প্রসিকিউটররা জানান।
রায় ঘোষণার সময় শনাক্ত হওয়া ছয় ভুক্তভোগীর মধ্যে পাঁচজন আদালতে বক্তব্য দেন। তারা বছরের পর বছর ধরে নির্যাতনের কারণে সৃষ্ট মানসিক ও আবেগগত ক্ষতির কথা তুলে ধরেন।
পরে আদালত তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ২২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে ভবিষ্যতে তার প্যারোলে মুক্তির সম্ভাবনা থাকায় কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা সমালোচনা করেছেন।
প্রসিকিউটরদের মতে, ভ্যাং এখনো নিজের অপরাধের দায় স্বীকার করেননি এবং কোনো অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি। ভবিষ্যতে প্যারোল পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম