যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিল জালিয়াতির বহুল আলোচিত মামলায় নতুন মোড় এসেছে। এফবিআই জানিয়েছে, তাদের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস’ তালিকাভুক্ত পলাতক অভিযুক্ত এলেইন এসকোকে (৪১) জ্যামাইকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এফবিআই জানায়, এসকোর অবস্থান সম্পর্কে একটি গোপন তথ্য পাওয়ার পর জ্যামাইকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে। তিনি ২০২৫ সালের মে মাসে আদালতে হাজির না হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর তার বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, এসকো এবং তার সহযোগীরা কোভিড-১৯ মহামারির সময় চালু হওয়া বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কর্মসূচি থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ভুয়া আবেদন জমা দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (PPP), রেস্টুরেন্ট রিভাইটালাইজেশন ফান্ড, শাটার্ড ভেন্যু অপারেটরস গ্রান্ট এবং ইকোনমিক ইনজুরি ডিজাস্টার লোন (EIDL) কর্মসূচির আওতায় জাল আবেদন করেন।
তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা ভুয়া কর নথি, জাল ব্যাংক রেকর্ড এবং মিথ্যা ব্যবসায়িক তথ্য ব্যবহার করে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেন। কিছু আবেদন করা হয় অস্তিত্বহীন বা নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে। আবার কিছু ক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তিদের ব্যবহার করা হয়, যারা পাওয়া অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন বা ‘কিকব্যাক’ দিতেন।
ফেডারেল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পরে বিভিন্ন অভিযুক্তের মধ্যে স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচার করা হয়।
এই মামলায় এসকোই ছিলেন শেষ পলাতক আসামি। এর আগে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন দোষ স্বীকার করেছেন বা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আলফ্রেড ডেভিসকে প্রায় ২০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেসন এ. রেডিং কুইনোনেস বলেন, “এফবিআই এবং আমাদের অংশীদার সংস্থাগুলো পলাতক আসামিদের পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন খুঁজে বের করবে। দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেই কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।”
এফবিআই আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে তাদের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস’ তালিকায় থাকা চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে এফবিআইয়ের ওয়েস্ট পাম বিচ রেসিডেন্ট এজেন্সি। এ কাজে সহযোগিতা করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI) মিয়ামি এবং পাম বিচ কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম