আমেরিকা

টরন্টোর মার্কিন কনস্যুলেটে আবারও গুলি, চলতি বছরে দ্বিতীয় হামলা

কানাডার টরন্টো শহরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ভবনের বাইরে আবারও গুলির ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এমন হামলা। ঘটনার পর হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে টরন্টো পুলিশ। পুলিশ জানায়, সোমবার ভোরে কনস্যুলেটের বাইরে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা একটি গুলির শব্দ শুনতে পান। এরপর তিনি একটি নম্বরপ্লেটবিহীন সাদা গাড়িকে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যেতে দেখেন। পুলিশ গাড়িটিকে ধাওয়া করলেও জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছুক্ষণ পর সেই ধাওয়া বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। হামলায় কতজন জড়িত ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এবং আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সহায়তায় ঘটনাটির তদন্ত চলছে। আরসিএমপির সুপারিনটেনডেন্ট জোনাথন কো এই ঘটনাকে "আরেকটি উদ্বেগজনক হামলা" বলে মন্তব্য করেছেন। আর টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও একে "সাহসী ও বেপরোয়া হামলা" উল্লেখ করে বলেন, "যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।" স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া কনস্যুলেট ভবনের বাইরের অংশে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় কনস্যুলেটের ভেতরে অন্তত দুইজন ব্যক্তি ছিলেন। তবে ভবনটি অত্যন্ত নিরাপদ ও সুরক্ষিত হওয়ায় তারা গুলির শব্দও শুনতে পাননি বলে জানিয়েছেন টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক বারেডো। তিনি বলেন, সন্দেহভাজনদের ধরতে শহরের সব পুলিশ সদস্যকে সতর্ক করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই কনস্যুলেটের বাইরে গুলির ঘটনা ঘটে। তখন পুলিশ এটিকে জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে। ওই ঘটনায়ও কেউ আহত হননি। পরবর্তীতে ওই হামলার তদন্তে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তারা ভাড়াটে বন্দুকধারীদের একটি চক্রের সদস্য এবং কনস্যুলেটে হামলাসহ একাধিক গুলির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, গত সপ্তাহান্তে টরন্টোতে ইহুদি মালিকানাধীন দুটি বেকারিতেও হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে অন্তত একটিতে গুলি চালানো হয়। তবে আপাতত এই দুই ঘটনার সঙ্গে কনস্যুলেটে হামলার কোনো সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও সম্ভাব্য যোগসূত্রের বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড সাম্প্রতিক এসব হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "এ ধরনের গুলি ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।" অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, তিনি এই ঘটনায় "মর্মাহত"। তিনি তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে এক ইরাকি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে ইহুদি প্রতিষ্ঠান এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় একাধিক হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে। সেই তালিকায় টরন্টোর মার্কিন কনস্যুলেটও ছিল। তবে সর্বশেষ হামলার সঙ্গে ওই ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি তদন্তকারীরা।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম