স্বাস্থ্য

হৃদযন্ত্রের আবরণ ভেদ করে ঢুকে ছিল সূঁচ, শরীরের নানা অংশে মিলল আরও ধাতব বস্তু

প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি ও প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেওয়ায় হাসপাতালে গিয়েছিলেন চীনের ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। বাইরে থেকে তাকে মোটামুটি সুস্থই মনে হচ্ছিল। কিন্তু পরীক্ষা করতে গিয়ে চিকিৎসকেরা তার শরীরের ভেতরে এমন কিছু দেখতে পান, যা তাদের অবাক করে দেয়। চিকিৎসকেরা প্রথমে একটি পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রের কাছে ছায়ার মতো একটি অস্বাভাবিক আকৃতি দেখতে পান। বিষয়টি নিশ্চিত হতে পরে কনট্রাস্টযুক্ত সিটি স্ক্যান করা হয়। এতে দেখা যায়, তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য সূঁচের মতো ধাতব বস্তু রয়েছে। এসব বস্তু ছিল বুক, পেট, পেলভিস, মূত্রথলি এমনকি যৌনাঙ্গেও। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছিল প্রায় ১ দশমিক ৪ ইঞ্চি লম্বা একটি ধাতব সূঁচ, যা হৃদযন্ত্রকে ঘিরে থাকা তরলপূর্ণ আবরণ বা পেরিকার্ডিয়ামে ঢুকে গিয়েছিল। কীভাবে এসব বস্তু তার শরীরে ঢুকল, তা শুরুতে চিকিৎসকদের কাছে রহস্য ছিল। ওই ব্যক্তির শৈশব থেকেই বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতার ইতিহাস রয়েছে। তিনি নিজেও বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারেননি। তার আইনগত অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাবাও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে চিকিৎসকেরা পরে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন। দুই বছর আগে অন্য একটি হাসপাতালে তার পেট থেকে দুটি ধাতব বস্তু অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়েছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা ধারণা করেন, ওই ব্যক্তি নিজেই শরীরের বিভিন্ন অংশে এসব বস্তু ঢুকিয়ে থাকতে পারেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই আচরণকে ‘সেলফ-এমবেডিং’ বলা হয়। এটি এমন এক ধরনের আত্মক্ষতিসাধন, যেখানে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরের ভেতর বা চামড়ার নিচে বিভিন্ন বস্তু ঢুকিয়ে দেয়। এ ধরনের ঘটনায় সংক্রমণ, টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষতি এবং বস্তু শরীরের অন্য অংশে চলে যাওয়ার মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই রোগীর ক্ষেত্রেও হৃদযন্ত্রের কাছে থাকা সূঁচটি তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছিল। তবে অন্য বস্তুগুলো সরাতেও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই চিকিৎসকেরা প্রথমে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সূঁচটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেরিকার্ডিয়াম থেকে একটি সম্পূর্ণ কালো ধাতব সেলাইয়ের সূঁচ বের করা হয়। সূঁচটিতে ক্ষয়ের চিহ্ন ছিল, যা দেখে চিকিৎসকেরা ধারণা করেন, এটি বেশ কিছুদিন ধরে তার শরীরে ছিল। অবাক করার মতো বিষয় হলো, ওই ব্যক্তির বুকে এমন কোনো স্পষ্ট ক্ষত বা দাগ পাওয়া যায়নি, যা দেখে বোঝা যায় কীভাবে সূঁচটি সেখানে প্রবেশ করেছিল। অস্ত্রোপচারের পর কিছু সময়ের জন্য তার হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর পেছনে সূঁচের কারণে আগে থেকেই তৈরি হওয়া ক্ষতি এবং অস্ত্রোপচারের ধকল—দুই বিষয়ই ভূমিকা রাখে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। অস্ত্রোপচারের নয় দিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। নয় মাস পরের পরীক্ষায়ও তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক হয়ে আসে। শরীরের অন্যান্য অংশে থাকা ধাতব বস্তুগুলোও চিকিৎসকেরা পর্যবেক্ষণে রাখেন। সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ না করে নিয়মিত নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কারণ অস্ত্রোপচার করে সেগুলো বের করতে গেলে উল্টো জটিলতা তৈরি হতে পারে।