যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা একটি মামলা আপাতত খারিজ করে দিয়েছেন ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালত। তবে মামলাকারীদের নতুন করে সংশোধিত আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন বিচারক।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক আদেশে মার্কিন জেলা বিচারক ট্রেভর এন. ম্যাকফ্যাডেন বলেন, মামলায় যুক্ত অধিকাংশ বাদী তাদের কীভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য দিতে পারেননি। এছাড়া আদালতে জমা দেওয়া অনেক নথিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল, ফলে নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রমাণের মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণে আদালত মামলাটি ‘উইদাউট প্রেজুডিস’ ভিত্তিতে খারিজ করেন। অর্থাৎ, একই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য দিয়ে নতুন করে মামলা করার সুযোগ থাকছে। বিচারক আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে দ্বিতীয় সংশোধিত আবেদন জমা দেওয়ার অনুমতিও দিয়েছেন।
বিতর্কিত নীতিটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা এক নির্দেশনার মাধ্যমে কার্যকর হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার আবেদন আপাতত ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত পর্যালোচনার কারণে অনুমোদন দেওয়া হবে না। তবে আবেদনকারীরা ভিসা সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন, কিন্তু পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ভিসা ইস্যু করা হবে না।
এই তালিকায় রাশিয়া, ইরান, ব্রাজিল, সোমালিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭৫টি দেশ রয়েছে।
মামলাটি করেন ৮০ জনের বেশি ব্যক্তি। তাদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন নাগরিক, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) এবং তাদের বিদেশি স্বজনরা। বাদীদের অভিযোগ, এই নীতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বৈষম্যমূলক বাধা তৈরি করা হয়েছে।
তবে বিচারক বলেন, মামলায় স্পষ্টভাবে দেখানো হয়নি যে নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের সঙ্গে এই নীতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে মামলাটি বর্তমান অবস্থায় এগিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, এই নীতি কার্যকর থাকলে যোগ্য অনেক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রেও অনেক পরিবার নিরুৎসাহিত হতে পারে।
তবে আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে নীতিটির বৈধতা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়নি। বরং বিচারক জানিয়েছেন, বাদীরা যদি আরও শক্তিশালী ও ব্যক্তি-ভিত্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে এই নীতির বৈধতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হতে পারে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম