আমেরিকা

হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ক্রুজ থেকে মার্কিন নাগরিকদের ফেরানো হচ্ছে

হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত একটি বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ থেকে অবশিষ্ট মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিশেষ চার্টার বিমান পাঠাচ্ছে। এই প্রাদুর্ভাবে ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন। সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এই ঘটনাকে “লেভেল ৩” জরুরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে, যা তাদের জরুরি সক্রিয়করণের সর্বনিম্ন স্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ডাচ অভিযাত্রী জাহাজ এমভি হন্ডিয়াস ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ১০ মে স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটি পরিচালনা করছে ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস। বর্তমানে জাহাজে ১৭ জন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। সিডিসির একটি দল ক্যানারি আইল্যান্ডসে গিয়ে যাত্রীদের একটি সরকারি মেডিকেল রিপ্যাট্রিয়েশন ফ্লাইটে নেব্রাস্কার ওমাহার একটি বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যাবে। পরে তাদের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা ওমাহার কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে রাখা হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আরেকটি দল নেব্রাস্কায় গিয়ে কোয়ারেন্টাইন কার্যক্রম তদারকি করবে। এরই মধ্যে অন্তত ছয়টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যে সম্ভাব্য সংক্রমণের জন্য নজরদারি শুরু হয়েছে। জর্জিয়ায় দুইজন, টেক্সাসে দুইজন, ভার্জিনিয়ায় একজন, অ্যারিজোনায় একজন এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় অনির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ২৪ এপ্রিল সেন্ট হেলেনায় ছয়জন মার্কিন নাগরিকসহ দুই ডজনের বেশি যাত্রী জাহাজ থেকে নেমে যান। এ পর্যন্ত আটটি সন্দেহভাজন ঘটনার মধ্যে পাঁচটি হান্টাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল জানিয়েছেন, রাজ্যের দুই বাসিন্দী আক্রান্ত এক যাত্রীর সঙ্গে একই বিমানে ভ্রমণ করায় সম্ভাব্যভাবে ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পরিস্থিতি “অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে এবং তার প্রশাসন এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি কীভাবে জাহাজে এই প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালায় থাকা ভাইরাস বাতাসে মিশে শ্বাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এই প্রাদুর্ভাব কোভিড-১৯-এর মতো বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ এ ধরনের হান্টাভাইরাস সাধারণত ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ সংস্পর্শে ছড়ায়। তবে রোগটির উপসর্গ প্রকাশ পেতে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আরও নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘটনার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস-এর অধীন বিভিন্ন সংস্থা, যেমন সিডিসি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ-এ প্রায় ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে, যদিও পরে কিছু কর্মীকে পুনর্বহাল করা হয়। এছাড়া সিডিসির ভেসেল স্যানিটেশন প্রোগ্রামের পূর্ণকালীন কর্মীদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে, যারা ক্রুজ জাহাজে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া আন্তর্জাতিক রোগতথ্য আদান-প্রদান ও সংক্রমণ অনুসরণ কার্যক্রমকে দুর্বল করতে পারে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম