ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনে তিন দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফর শুরু করেছেন। সফরের প্রথম দিন বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
দুই নেতা করমর্দনের মাধ্যমে বৈঠক শুরু করেন। সামরিক কুচকাওয়াজ, কামানের সালাম এবং দুই দেশের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো হয়।
স্বাগত অনুষ্ঠানে শত শত স্কুলশিক্ষার্থী ফুল ও যুক্তরাষ্ট্র-চীনের পতাকা হাতে অংশ নেয়। পরে ট্রাম্প ও শি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন।
বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প শি জিনপিংকে “একজন মহান নেতা” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আপনার বন্ধু হতে পেরে আমি সম্মানিত। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হবে।”
এই সফরে বাণিজ্য, ইরান সংকট, তাইওয়ান এবং পারমাণবিক নিরাপত্তাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপে পড়েছে।
চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, বেইজিং তেহরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে ভূমিকা রাখবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, বর্তমান সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর প্রভাব চীনের রপ্তানিতেও পড়ছে। তাই সংকট সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া চীনের স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে তাইওয়ান ইস্যুও বৈঠকের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা অনুমোদন করেছে, যা নিয়ে চীন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্পের সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং, স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক, প্রযুক্তি ও কৃষি খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা।
বিশ্লেষকদের মতে, সফরটি কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাণিজ্য, ইরান বা তাইওয়ান ইস্যুতে বড় ধরনের সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম