আমেরিকা

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে গর্ভপাতের ওষুধ সরবরাহ আপাতত বহাল

যুক্তরাষ্ট্রের Supreme Court of the United States আপাতত গর্ভপাতের ওষুধ মিফেপ্রিস্টোন ডাকযোগে পাওয়ার সুযোগ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এই রায়ের ফলে ওষুধটি আগের মতোই ডাকযোগে বা টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে রোগীদের কাছে পৌঁছানো যাবে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই সুবিধা বহাল থাকবে। মামলার চূড়ান্ত রায় আগামী বছর হতে পারে। মিফেপ্রিস্টোন উৎপাদনকারী দুটি ওষুধ কোম্পানি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। এর আগে একটি নিম্ন আদালত ওষুধটির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, যার ফলে ডাকযোগে সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত। বিশেষ করে যেসব অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাত নিষিদ্ধ বা সীমিত, সেখানে এই ওষুধের গুরুত্ব অনেক বেশি। Louisiana অঙ্গরাজ্য গত বছরের অক্টোবরে U.S. Food and Drug Administration-এর বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের দাবি ছিল, ডাকযোগে মিফেপ্রিস্টোন পাঠানোর অনুমতি লুইজিয়ানার গর্ভপাত নিষিদ্ধকরণ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০২৩ সালে এফডিএ চিকিৎসকদের রোগীকে সরাসরি না দেখেই প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে এই ওষুধ দেওয়ার অনুমতি দেয়। ফলে নারীরা ডাকযোগে বা ফার্মেসির মাধ্যমে সহজে ওষুধটি সংগ্রহ করতে পারছিলেন। মিফেপ্রিস্টোন সাধারণত দুই ধাপের ওষুধভিত্তিক গর্ভপাত প্রক্রিয়ার প্রথম ওষুধ। যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে গর্ভপাত বৈধ, সেখানে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে আদালতের রক্ষণশীল দুই বিচারপতি Clarence Thomas এবং Samuel Alito এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক Roe v. Wade রায় বাতিল করে, যার ফলে পৃথক অঙ্গরাজ্যগুলো গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পায়। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টিরও বেশি অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাত নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম