আমেরিকা

ইহুদি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা, ইরাকি কমান্ডার গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ইহুদি উপাসনালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে এক ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা বলছেন, ইরান যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসেবে তিনি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি। তার বয়স ৩২ বছর। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিউইয়র্কের একটি ইহুদি উপাসনালয় এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস ও অ্যারিজোনার স্কটসডেলের দুটি ইহুদি প্রতিষ্ঠানে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তার আইনজীবী বলেছেন, আল-সাদিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, আল-সাদি ইরাকভিত্তিক কাতাইব হিজবুল্লাহ নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কমান্ডার। যুক্তরাষ্ট্র এই গোষ্ঠীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। গোষ্ঠীটির সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্কে তাকে আটক করার পর এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতের নির্দেশে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ, আল-সাদি অন্যদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে হামলা চালাতে উৎসাহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আমেরিকান নাগরিক ও ইহুদিদের হত্যা করার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৯ মার্চ থেকে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত অন্তত ১৮টি হামলার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও প্রচারে তার ভূমিকা ছিল। এছাড়া কানাডায়ও দুটি হামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এই হামলাগুলোর মধ্যে ছিল বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরে একটি ইহুদি উপাসনালয়ে বিস্ফোরক হামলা, নেদারল্যান্ডসের রটারডামে অগ্নিসংযোগ, আমস্টারডামে একটি ইহুদি বিদ্যালয়ে বিস্ফোরণ এবং একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হামলা। পরে লন্ডন, অ্যান্টওয়ার্প, প্যারিস ও মিউনিখেও একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। গত ২৯ এপ্রিল লন্ডনে দুই ইহুদি ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনাও এই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন তদন্তকারীরা জানান, আল-সাদি একজন গোপন এজেন্টকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন ওই ব্যক্তি মেক্সিকোর একটি মাদক চক্রের সদস্য। তাকে নিউইয়র্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইহুদি উপাসনালয়ের ছবি ও মানচিত্র দেখানো হয়েছিল। ফোনালাপের একটি রেকর্ডে আল-সাদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বোমা হামলা চালানোর জন্য একজনকে ভাড়া করতে কত খরচ হবে তা জানতে চাওয়ার কথা শোনা গেছে। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস ও স্কটসডেলের ইহুদি কেন্দ্রগুলোর ছবি ও মানচিত্রও সরবরাহ করেছিলেন এবং একই সময়ে তিনটি স্থাপনায় আগুন দেওয়া সম্ভব কি না তা জানতে চেয়েছিলেন। তার আইনজীবী অ্যান্ড্রু ডালাক দাবি করেছেন, আল-সাদিকে যথাযথ আইনি সুযোগ না দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে একাকী কক্ষে রাখা হয়েছে, যা অমানবিক এবং অপ্রয়োজনীয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, আল-সাদি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর সাবেক প্রভাবশালী কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ২০২০ সালে মার্কিন বিমান হামলায় সোলাইমানি নিহত হন। মার্কিন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, এই গ্রেপ্তার প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন ও তাদের নেতাদের কার্যক্রম প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এলএবাংলাটাইমস/ওএম