আন্তর্জাতিক

রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা প্রস্তুত করছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র প্রায় তিন দশক আগে দুটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হতে পারে। ৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো ২০২১ সালে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। এর মাধ্যমে কাস্ত্রো পরিবারের অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক প্রভাবের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। তিনি তার ভাই ফিদেল কাস্ত্রোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ১৫ বছর দেশ পরিচালনা করেন। মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনা। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবিক সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর দুটি ছোট বিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। এতে চারজন নিহত হন। সংগঠনটি সমুদ্রপথে কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আসা অভিবাসীদের খুঁজে উদ্ধার করত। একই সঙ্গে তারা কিউবার উপকূলের কাছে সরকারবিরোধী প্রচারপত্রও ফেলেছিল। কিউবা দাবি করেছিল, বিমানগুলো তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। তবে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার তদন্তে দেখা যায়, হামলাটি আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর সংঘটিত হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগ গঠনের জন্য একটি বিশেষ নাগরিক জুরি বোর্ডকে সন্তুষ্ট করতে হবে যে অপরাধ সংঘটনের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, তিনি বিচার বিভাগকেই এ বিষয়ে কথা বলতে দেবেন। তবে তিনি কিউবাকে একটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে কিউবার ওপর তেল অবরোধ ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার ফলে দেশটিতে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিস সম্ভাব্য এ মামলাকে “দীর্ঘদিনের বকেয়া পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। কিউবার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেস বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা ও হুমকি সত্ত্বেও কিউবা তার সার্বভৌম পথেই এগিয়ে যাবে। সম্প্রতি হাভানায় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জন র‌্যাটক্লিফ কিউবার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এতে রাউল কাস্ত্রোর নাতিও উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কিউবা মৌলিক পরিবর্তন আনলে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা সম্ভব। বিশ্লেষকদের মতে, রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য এই মামলা কিউবার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ বৃদ্ধির আরেকটি পদক্ষেপ। তবে অতিরিক্ত চাপ কিউবার অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ভেঙে দিলে ব্যাপক অভিবাসন সংকট তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম