আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে আইএসের শীর্ষ নেতা নিহত

যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ সামরিক অভিযানে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে বিশ্বব্যাপী আইএসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা এবং বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু বলেছেন, দুই দেশের এই সাহসী যৌথ অভিযান আইএসের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালে আল-মিনুকিকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের পর শনিবার মধ্যরাতের পর অভিযান শুরু হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো অঙ্গরাজ্যের মেতেলে এলাকায় লেক চাদ অববাহিকায় তার সুরক্ষিত ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানো হয়। এই অভিযানে আল-মিনুকির সঙ্গে তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীও নিহত হন। সামরিক বাহিনী জানায়, অভিযানে তাদের কোনো সদস্য হতাহত হয়নি এবং কোনো সামরিক সরঞ্জামেরও ক্ষতি হয়নি। নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীর মতে, আল-মিনুকি আইএসের “হেড অব জেনারেল ডিরেক্টরেট অব স্টেটস” পদে উন্নীত হয়েছিলেন, যা তাকে সংগঠনটির বৈশ্বিক নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত করে। তিনি সাহেল অঞ্চল ও পশ্চিম আফ্রিকায় আইএস-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড তদারকি করতেন এবং বেসামরিক নাগরিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর একাধিক হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবু-বিলাল আল-মিনুকি একসময় জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের সিনিয়র কমান্ডার ছিলেন। ২০১৫ সালে বোকো হারাম আইএসের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করলে তিনিও ইসলামিক স্টেটে যোগ দেন। ২০১৮ সালে ডাপচি শহর থেকে শতাধিক স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করেছে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী। এর আগে ২০২৪ সালেও নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী দাবি করেছিল যে আল-মিনুকি নিহত হয়েছেন। তবে এবার তারা স্বীকার করেছে, তখন একই ছদ্মনাম ব্যবহারকারী অন্য একজন জঙ্গি নিহত হয়েছিল। অতীতেও বোকো হারামের সাবেক নেতা আবুবকর শেকাউয়ের মৃত্যুর খবর একাধিকবার ভুলভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে ২০২১ সালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামিক স্টেটের কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে এসে আফ্রিকার সাব-সাহারান অঞ্চলে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে সংগঠনটির প্রায় ৯০ শতাংশ হামলাই এই অঞ্চলে সংঘটিত হচ্ছে এবং এর মধ্যে নাইজেরিয়াভিত্তিক শাখাটি সবচেয়ে সক্রিয়। গত এপ্রিলে উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার আদামাওয়া অঙ্গরাজ্যে একটি ফুটবল মাঠে হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হওয়ার দায়ও স্বীকার করেছিল আইএস। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আল-মিনুকির মৃত্যু আইএসের আফ্রিকান ও বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধাক্কা। এতে সংগঠনটির অর্থায়ন ও কমান্ড কাঠামো দুর্বল হবে। তিনি নাইজেরিয়া সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই সন্ত্রাসী আর আফ্রিকার মানুষকে আতঙ্কিত করতে পারবে না এবং আমেরিকানদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনাও করতে পারবে না। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জঙ্গি তৎপরতায় বিপর্যস্ত নাইজেরিয়া এখন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করছে। সম্প্রতি রুয়ান্ডার কিগালিতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা সিইও ফোরামে প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু বলেন, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ একা মোকাবিলা করা যায় না। কার্যকর সহযোগিতা ও বাস্তবভিত্তিক অংশীদারিত্বই জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম