ণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে এক মার্কিন চিকিৎসক নিজেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পরে চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা সার্জে জানায়, আক্রান্ত চিকিৎসকের নাম পিটার স্ট্যাফোর্ড। তিনি ২০২৩ সাল থেকে কঙ্গোর বুনিয়া শহরের নিয়ানকুন্ডে হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ইবোলা রোগীদের চিকিৎসা করার সময় তিনি ভাইরাসে আক্রান্ত হন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, পিটার স্ট্যাফোর্ডের স্ত্রী ডা. রেবেকা স্ট্যাফোর্ডসহ আরও দুই চিকিৎসক ভাইরাসের সংস্পর্শে এলেও তাদের শরীরে এখনো কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। তারা কোয়ারেন্টিনে থেকে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে আছেন। স্ট্যাফোর্ড দম্পতি এবং তাদের চার সন্তানকে এমন একটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে, যেখানে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
পিটার স্ট্যাফোর্ড সাধারণ সার্জারির বিশেষজ্ঞ এবং রেবেকা স্ট্যাফোর্ড প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। তারা ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার সময় পরিচিত হন এবং ২০১৩ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১৯ সালে তারা আফ্রিকায় যান এবং টোগোতেও চিকিৎসা সেবায় কাজ করেছেন।
সিডিসি জানিয়েছে, কঙ্গোতে ইবোলার সংস্পর্শে আসা আরও অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। তবে সংস্থাটি তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
বর্তমানে ডিআর কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৯০টিরও বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো কার্যকর টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, বাস্তবে সংক্রমণের সংখ্যা বর্তমানে শনাক্ত সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
সিডিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি এখনো কম। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গত ২১ দিনের মধ্যে ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদান সফর করেছেন—এমন বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কঙ্গোর পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন, তবে তার বিশ্বাস, এখনো এই ভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েনি।
ইবোলা একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত আক্রান্ত প্রাণী, বিশেষ করে ফলখেকো বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ শুরু হয়। এরপর আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়াতে পারে। সংক্রমণের দুই থেকে ২১ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা ও তীব্র দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা যায়।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম