সান ডিয়েগো শহরের ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো মসজিদে বন্দুক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুই কিশোর হামলাকারী এ ঘটনায় জড়িত ছিল এবং হামলার পর তারা নিজেদের গুলি করে আত্মহত্যা করে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ঘৃণাজনিত অপরাধ বা হেট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
সোমবার সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে পুলিশ এক কিশোরের মায়ের কাছ থেকে ফোন পায়। তিনি জানান, তার ছেলে বাড়ি থেকে কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং পরিবারের গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেছে। ওই কিশোরের সঙ্গে আরেকজন ছিল এবং দুজনেই ছদ্মবেশী সামরিক পোশাক পরেছিল।
স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটে পুলিশ মসজিদে পৌঁছে ভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। নিহতদের মধ্যে মসজিদের নিরাপত্তারক্ষীও ছিলেন। পুলিশ বলেছে, তিনি সাহসিকতার সঙ্গে হামলাকারীদের বাধা দিয়েছিলেন এবং তার কারণে আরও বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সান ডিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াল বলেন, “তার কর্মকাণ্ড ছিল বীরত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে তিনি অনেক মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।” স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত এই নিরাপত্তারক্ষী আট সন্তানের জনক ছিলেন।
হামলার কিছুক্ষণ পর কাছাকাছি একটি এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনার খবর আসে। সেখানে এক ল্যান্ডস্কেপ কর্মীর দিকে চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি ছোড়া হয়, তবে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। পরে মসজিদ থেকে কয়েক ব্লক দূরে গাড়ির ভেতর দুই কিশোর হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের বয়স ছিল ১৭ ও ১৮ বছর।
পুলিশের ধারণা, হামলাটি ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। কারণ হামলার লক্ষ্য ছিল কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ এবং সন্দেহভাজনদের একজনের রেখে যাওয়া নোটে ঘৃণামূলক বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে সেখানে মসজিদ বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা স্থাপনাকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়নি।
ঘটনার সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত আল রশিদ স্কুলে শিশুদের ক্লাস চলছিল। পুলিশ দ্রুত তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়। আশপাশের কয়েকটি স্কুলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোর পরিচালক ইমাম তাহা হাসানে বলেন, “উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি ইবাদতের স্থান, যুদ্ধক্ষেত্র নয়।”
ঘটনাটি ঘটেছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র উৎসব ঈদুল আজহার কয়েক দিন আগে, যখন অনেক পরিবার ও শিশু মসজিদে আসা-যাওয়া করছিল।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এ ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বা ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে “ভয়াবহ পরিস্থিতি” বলে উল্লেখ করেছেন।
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জনগণের কাছে এ ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকলে তা তদন্তকারীদের জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম