আমেরিকা

ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থীর কাছে পরাজিত ট্রাম্পবিরোধী রিপাবলিকান নেতা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। কেন্টাকির চতুর্থ কংগ্রেশনাল জেলায় রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন জিতে নিয়েছেন সাবেক নেভি সিল সদস্য এড গ্যালরেইন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কেন্টাকি প্রাইমারিতে গ্যালরেইন ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ম্যাসিকে হারান। ম্যাসি পান ৪৫ শতাংশ ভোট। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই নির্বাচনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাইমারিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে কংগ্রেসে থাকা থমাস ম্যাসি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি ট্রাম্পের কর ও ব্যয় সংক্রান্ত বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেন, কারণ এতে জাতীয় ঋণ আরও বেড়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন। এছাড়া তিনি ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে হামলা এবং ইরান-সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করেন। জেফ্রি এপস্টেইন সম্পর্কিত নথিপত্র প্রকাশের দাবিতেও তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ভোটারদের এড গ্যালরেইনকে সমর্থন করার আহ্বান জানান। তিনি ম্যাসিকে “বড় বাধাসৃষ্টিকারী” এবং “ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান” বলে আখ্যায়িত করেন। গ্যালরেইনের পক্ষে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দাতারা ব্যাপক অর্থ সহায়তা দেন। নির্বাচনী প্রচারণায় ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। বিজয়োত্তর বক্তব্যে এড গ্যালরেইন বলেন, তার জয় ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি কেন্টাকির চতুর্থ জেলার রিপাবলিকান পরিবারগুলোর বিজয়। তিনি ট্রাম্পকে তার সমর্থন ও পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে পরাজয় স্বীকার করে থমাস ম্যাসি বলেন, ভোটাররা এমন একজনকে বেছে নিয়েছেন যিনি দলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবেন। তবে তিনি যোগ করেন, এই দেশে এখনো এমন নেতার প্রয়োজন আছে, যিনি দলের চেয়ে নীতিকে বেশি গুরুত্ব দেন। একই দিনে কেন্টাকিতে দীর্ঘদিনের সিনেটর মিচ ম্যাককনেলের অবসরের পর তার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য রিপাবলিকান মনোনয়ন জিতেছেন কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি বার। তাকেও সমর্থন দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। থমাস ম্যাসির পরাজয়কে রিপাবলিকান পার্টির ওপর ট্রাম্পের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণের আরেকটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে ট্রাম্প তার সমালোচকদের সরিয়ে দিয়ে অনুগত নেতাদের সামনে নিয়ে আসতে ধারাবাহিকভাবে সফল হয়েছেন। এলএবাংলাটাইমস/ওএম