ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে বন্দুক হামলায় নিহত তিনজনের একজন নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহকে প্রকৃত নায়ক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পুলিশ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা। তাদের মতে, তার সাহসী পদক্ষেপের কারণেই মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় ১৪০ শিশু নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরের কিছু আগে সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদটিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, দুই হামলাকারী মসজিদের দিকে এগিয়ে গেলে আমিন আবদুল্লাহ তাদের দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে গুলিবর্ষণ করে প্রতিরোধ শুরু করেন। একই সঙ্গে তিনি রেডিওর মাধ্যমে লকডাউন প্রোটোকল চালু করেন, যাতে স্কুল ও মসজিদের ভেতরে থাকা সবাই দ্রুত নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে।
সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল বলেন, আমিন আবদুল্লাহর পদক্ষেপ হামলাকারীদের গতি মন্থর করে, তাদের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত মসজিদের মূল অংশে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। সেখানে হামলাকারীদের খুব কাছাকাছি দূরত্বে প্রায় ১৪০ শিশু অবস্থান করছিল। তবে বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে তিনি নিহত হন।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ আমিন আবদুল্লাহকে “সবচেয়ে হাসিখুশি ও সদালাপী মানুষ” হিসেবে বর্ণনা করেছে। তিনি আট সন্তানের জনক ছিলেন। তার মেয়ে হাওয়া আবদুল্লাহ বলেন, তার বাবা সব ধরনের ঘৃণার বিরুদ্ধে দাঁড়াতেন এবং কমিউনিটির নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন।
হামলায় আরও নিহত হন মানসুর কাজিহা এবং নাদির আওয়াদ। মানসুর কাজিহা, যিনি আবু ইজ্জ নামেও পরিচিত ছিলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে মসজিদের স্টোর পরিচালনা করতেন এবং মসজিদের বিভিন্ন কাজে সবসময় সক্রিয় ছিলেন। তাকে ইসলামিক সেন্টারের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অন্যদিকে নাদির আওয়াদ গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং মানসুর কাজিহার সঙ্গে মিলে হামলাকারীদের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেন। এতে মূল্যবান সময় পাওয়া যায় এবং শিশুদের জীবন রক্ষা পায়।
কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) জানিয়েছে, তিনজনই নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। সংস্থাটি আমিন আবদুল্লাহকে এমন একজন নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছে, যিনি অন্যদের রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই হামলাকারী পরে নিজেদের গুলিতে নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গাড়ি থেকে ইসলামবিরোধী লেখা উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এ ঘটনাকে “অত্যন্ত নিন্দনীয়” ও “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। এফবিআই একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে।
ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক তাহা হাসান বলেন, “আমরা এর আগে কখনও এমন ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি।” তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই শতাধিক শিশুর জীবন রক্ষা পেয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম