আমেরিকা

মাংসখেকো স্ক্রুওয়ার্ম ঠেকাতে মাছি ও কুকুর মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রায় ৬০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবারও শনাক্ত হয়েছে ভয়ংকর মাংসখেকো পরজীবী ‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম’। এর বিস্তার ঠেকাতে বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির কৃষি ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কোটি কোটি বন্ধ্যা (প্রজননক্ষমতাহীন) মাছি ছেড়ে দেওয়া হবে এবং সীমান্ত এলাকায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর মোতায়েন করা হবে। স্ক্রুওয়ার্ম এক ধরনের পরজীবী মাছি। এর স্ত্রী মাছি গবাদিপশু, বন্যপ্রাণী বা মানুষের শরীরের খোলা ক্ষতস্থানে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বের হওয়া লার্ভা জীবন্ত মাংস খেতে শুরু করে এবং চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত প্রাণী বা মানুষের মৃত্যুও ঘটতে পারে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, টেক্সাসের লা প্রাইওর শহরে মেক্সিকো সীমান্তের কাছাকাছি একটি তিন সপ্তাহ বয়সী বাছুরের নাভির অংশে স্ক্রুওয়ার্মের লার্ভা পাওয়া গেছে। ১৯৬৬ সালের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শনাক্ত হওয়া ঘটনা। সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্ত এলাকার চারপাশে ২০ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে কোয়ারেন্টিন, পশু চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নিবিড় নজরদারি চালানো হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের প্রধান কৌশল হলো বিপুল সংখ্যক বন্ধ্যা স্ক্রুওয়ার্ম মাছি প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া। কারণ স্ত্রী স্ক্রুওয়ার্ম জীবনে মাত্র একবার প্রজনন করে। বন্ধ্যা পুরুষ মাছির সঙ্গে মিলনের ফলে তাদের ডিম নিষিক্ত হবে না এবং নতুন লার্ভা জন্মাবে না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা এই পরিকল্পনার জন্য যথেষ্ট নয়। প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৬০ কোটি বন্ধ্যা মাছি প্রয়োজন হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর বিদ্যমান স্থাপনাগুলো মিলে বর্তমানে মাত্র ১০ কোটি মাছি উৎপাদন করতে পারে। মার্কিন কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স জানিয়েছেন, আক্রান্ত বাছুর শনাক্ত হওয়ার পর থেকে চার মিলিয়ন বন্ধ্যা মাছি স্থলপথে ছাড়া হয়েছে। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি সপ্তাহে আরও চার মিলিয়ন মাছি বিমান থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে টেক্সাসের অনেক খামারি এবং সমালোচকদের দাবি, এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। তারা অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে সমস্যাটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। এদিকে ডেমোক্র্যাট নেতারাও সরকারের প্রতিক্রিয়াকে ধীরগতির বলে সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, মধ্য আমেরিকায় স্ক্রুওয়ার্ম পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সীমান্তে ‘বিগল ব্রিগেড’ নামে পরিচিত বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুর মোতায়েন করা হচ্ছে। এসব কুকুর গন্ধ শুঁকে স্ক্রুওয়ার্ম শনাক্ত করতে সক্ষম। খামারিদের গবাদিপশুর ক্ষতস্থান দ্রুত ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে মাছি সেখানে ডিম পাড়তে না পারে। পাশাপাশি মানুষকেও নিজেদের ও পোষা প্রাণীদের নিয়মিত পরীক্ষা করতে এবং কোনো সংক্রমণ ধরা পড়লে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত উষ্ণ অঞ্চলে দেখা গেলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্ক্রুওয়ার্ম ধীরে ধীরে আরও উত্তরের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে পানামা, মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ এবং মেক্সিকোতে এর বিস্তার বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ঘটনাকে তাই বড় সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম