আমেরিকা

৪০ মিলিয়ন ডলারের স্বর্ণের বার লুকানোর অভিযোগে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা কারাগারে

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড রাশের বিরুদ্ধে নিজের বাড়িতে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের স্বর্ণের বার লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। প্রসিকিউটররা তাকে “চতুর প্রতারক” ও “দক্ষ কৌশলী” বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, তিনি প্রতিবেশীদের কাছেও নিজের পরিচয় নিয়ে মিথ্যা বলতেন। ভার্জিনিয়ার এক ফেডারেল বিচারক শুক্রবার রায় দেন যে, ৪৯ বছর বয়সী রাশ পালিয়ে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। ফলে বিচার শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হবে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রাশ নিজের প্রভাব ও সরকারি উচ্চপর্যায়ের সংযোগ ব্যবহার করে নিয়ম এড়িয়ে চলতেন। তিনি প্রতিবেশীদের কাছে নিজেকে নৌবাহিনীর পাইলট বলে পরিচয় দিতেন, যদিও সেই দাবি সত্য নয় বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, রাশ ভার্জিনিয়াভিত্তিক একটি মার্কিন সরকারি সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন এবং তার কাছে অত্যন্ত গোপন তথ্য ব্যবহারের অনুমতি ছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তিনি সিআইএতে কর্মরত ছিলেন। এফবিআই জানিয়েছে, সিআইএর তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করা হয়। গত মাসে দায়ের করা এক মামলায় রাশের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে প্রায় ৭০ হাজার ডলারের ভুয়া কর্মঘণ্টার হিসাব জমা দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে একটি ফৌজদারি মামলা চলছে। আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে রাশ কর্মসংক্রান্ত খরচের জন্য স্বর্ণের বার ও বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণ করেছিলেন। তবে পরে তিনি এসব সম্পদের ব্যবহার সংক্রান্ত কোনো নথি জমা দেননি এবং সিআইএও সেগুলোর অবস্থান খুঁজে পায়নি। এফবিআই গত মাসে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩০০টিরও বেশি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে, যার মূল্য প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া প্রায় ২০ লাখ ডলার নগদ অর্থ এবং ৩০টির বেশি বিলাসবহুল ঘড়িও জব্দ করা হয়। প্রসিকিউটরদের দাবি, রাশ অর্থ গোপন করার উদ্দেশ্যে সেগুলো বিভিন্ন বাণিজ্যযোগ্য সম্পদে রূপান্তর করছিলেন। তাদের মতে, তিনি চুরি করা অর্থের উৎস আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। তদন্তকারীরা আরও অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও তিনি বেতনসহ সামরিক ছুটির সুবিধা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছেন। চাকরির আবেদন করার সময় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামরিক অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের দাবি, যে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে তার একটি বড় অংশের এখনও কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে রাশের আইনজীবী জেসিকা কারমাইকেল এসব অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তার দাবি, উদ্ধার হওয়া সব স্বর্ণের বারের হিসাব রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে অযথা অতিরঞ্জন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এফবিআই যখন বাড়িতে তল্লাশি চালায়, তখন রাশ নিজেই তদন্তকারীদের স্বর্ণের বারের অবস্থান জানান এবং বেজমেন্টে রাখা সেগুলো খুলতে প্রয়োজনীয় কোডও সরবরাহ করেন। তিনি কখনও দাবি করেননি যে স্বর্ণগুলো তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। বর্তমানে রাশকে একাকী কারাবাসে রাখা হয়েছে। দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা তাকে সেল থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তার আইনজীবী আদালতের কাছে ইলেকট্রনিক নজরদারির আওতায় গৃহবন্দি রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে বিচারক উইলিয়াম ফিটজপ্যাট্রিক সেই আবেদন নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, রাশের পেশাগত দক্ষতা ও গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা তাকে সাধারণ মানুষের তুলনায় সহজে পালিয়ে যেতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে সক্ষম করতে পারে। তাই তাকে কারাগারেই রাখা প্রয়োজন।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম