আমেরিকা

জাপানে নিখোঁজ মার্কিন শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছায় পরিবার ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা পুলিশের

জাপানে পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে খুঁজে পেতে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, ২০ বছর বয়সী ওই তরুণ হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই পরিবার থেকে দূরে চলে গেছেন। তবে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম ওয়েস্টন হিগিনবোথাম। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা এবং অবার্ন ইউনিভার্সিটির পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী। ওয়েস্টনের মা ন্যান্সি হিগিনবোথাম জানান, পরিবারের সঙ্গে জাপান ভ্রমণের সময় গত ২৯ মে তিনি একাই কিয়োটো শহর ঘুরতে বের হন। একা ভ্রমণের অভ্যাস থাকায় প্রথমে পরিবার উদ্বিগ্ন হয়নি। কিন্তু কিছু সময় পর তার মোবাইল ফোনের লোকেশন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে পরিবারের সন্দেহ হয় যে কিছু একটা ঘটেছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃতিপ্রেমী ওয়েস্টনের সঙ্গে মায়ের সামান্য মতবিরোধ হয়েছিল। এরপর কিছুটা সময় একা কাটানোর জন্য তিনি কিয়োটো শহর ঘুরতে বের হন, যখন পরিবারের অন্য সদস্যরা একটি মন্দিরে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, সেদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওয়েস্টন কিয়োটো স্টেশন ত্যাগ করেন। রাত ৮টার দিকে কিয়োটোর ইয়ামাশিনা এলাকায় সর্বশেষ সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একা হাঁটতে দেখা যায়। ওই পথটি কাছাকাছি একটি বনাঞ্চল ও পাহাড়ি ট্রেইলের দিকে যায়। ইয়ামাশিনা এলাকা কিয়োটো ও শিগা প্রিফেকচারের সীমান্তে অবস্থিত এবং চারপাশে ঘন বন ও পাহাড়ে ঘেরা। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে জাপানের পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করেছে। অনুসন্ধানে অংশ নিয়েছে ডজনখানেক পুলিশ সদস্য, পুলিশ কুকুর, হেলিকপ্টার এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা। এছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইও অনুসন্ধান কার্যক্রমে সহায়তা করছে। সম্প্রতি কিয়োটো অঞ্চলে আঘাত হানা টাইফুন ও ভারী বৃষ্টিপাত ওয়েস্টনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। যদি তিনি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করে থাকেন, তবে আবহাওয়ার কারণে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, ওয়েস্টনের চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করেছে, তার রেখে যাওয়া ব্যক্তিগত সামগ্রী পরীক্ষা করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে। তদন্তকারীদের মতে, বর্তমানে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনাটিকে নিখোঁজ ব্যক্তির মামলা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ওয়েস্টনের মা বলেন, “ওর জন্য প্রতিটি মুহূর্তই আমাদের কাছে অসহনীয়। আমি শুধু আমার ছেলেকে ফিরে চাই।” তিনি জানান, নিখোঁজ হওয়ার সময় ওয়েস্টনের কাছে প্রায় ১০ হাজার জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬২ ডলার) ছিল এবং তার মোবাইল ফোনে ৩৪ শতাংশ চার্জ অবশিষ্ট ছিল। পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, ওয়েস্টন এখনও কোথাও নিরাপদে আছেন। তার বাবা কিথ হিগিনবোথাম বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ওকে খুঁজে পাওয়া যাবে। যতক্ষণ না তাকে খুঁজে পাচ্ছি, ততক্ষণ অনুসন্ধান চালিয়ে যাব।” এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্টনের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং স্থানীয় সম্প্রদায় তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রার্থনা করছে। অ্যালাবামার বার্মিংহামে একটি গির্জায় তার জন্য বিশেষ প্রার্থনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে। জাপানি সাধারণ নাগরিকরাও অনুসন্ধান কাজে সহায়তা করছেন। কেউ লিফলেট বিতরণ করছেন, কেউ আবার অনুবাদক হিসেবে সহায়তা দিচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, যদি ওয়েস্টনকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম