আমেরিকা

নকল বোর্ডিং পাসে বিমানে উঠে পড়লেন যাত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি নকল বোর্ডিং পাস ব্যবহার করে বিমানে উঠে পড়ার ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক দুর্বলতা সামনে এসেছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত আবদুলরহমান ওরিওমির ফ্লাইট বুকিং আগেই বাতিল করা হয়েছিল। তার কাছে থাকা বোর্ডিং পাসটিও ছিল জাল। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৮ মে সকালে সিসিটিভি ফুটেজে ওরিওমিকে এক টিএসএ (ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। পরে তাকে আরেকটি টিএসএ বুথে নেওয়া হয়, সেখানে তার ছবি তোলা হয় এবং বৈধ বোর্ডিং পাস ছাড়াই তাকে নিরাপত্তা চৌকি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। সাবেক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট ও বর্তমানে নিরাপত্তা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এম৬ গ্লোবাল ডিফেন্সের প্রধান মাইকেল ম্যাটরাঙ্গা বলেন, বৈধ বোর্ডিং পাস ছাড়া কোনো যাত্রীকে নিরাপত্তা তল্লাশি পার হতে দেওয়া উচিত হয়নি। তার ভাষায়, “এটি শুধু বিমানে উঠে পড়ার ঘটনা নয়, বরং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার একাধিক স্তরে ব্যর্থতার বড় উদাহরণ।” পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওরিওমি প্রথমে একটি গেটে গিয়ে দুবার জাল বোর্ডিং পাস স্ক্যান করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পরে তিনি আরেকটি গেটে যান, যেখানে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের কর্মীরা যাত্রীদের বোর্ডিং পাস পরীক্ষা করছিলেন। সেই সময় কর্মীরা অন্য যাত্রীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ওরিওমি তাদের পাশ কাটিয়ে সরাসরি ভেতরে ঢুকে পড়েন। ম্যাটরাঙ্গা বলেন, “কর্মীরা তার বিভ্রান্তিকর কৌশল বুঝতে পারেননি। তারা পরিস্থিতির প্রতি যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন না।” পুলিশ জানায়, বিমানে ওঠার পর ওরিওমি বিমান রানওয়ের দিকে যাওয়ার সময় একটি শৌচাগারে লুকিয়ে ছিলেন। পরে এক যাত্রী বিষয়টি লক্ষ্য করে বিমানকর্মীদের জানান। বিমানকর্মীরা নিশ্চিত হওয়ার পর যে তিনি বৈধ যাত্রী নন, বিমানটি আবার গেটে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে পুলিশ, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এবং এফবিআই সদস্যরা উপস্থিত হন। ম্যাটরাঙ্গার মতে, শুরুতেই নিরাপত্তা চৌকিতে তাকে আটকানো গেলে পুরো ঘটনাই এড়ানো সম্ভব ছিল। তিনি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণেরও দাবি জানান। ঘটনার দিন ওরিওমিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাকে বিমানবন্দরে অনধিকার প্রবেশের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তবে সঙ্গে সঙ্গে কোনো মামলা করা হয়নি। পরে তদন্তের ভিত্তিতে ১ জুন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং শুক্রবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, জুন মাসের আগে পুলিশ অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। পুলিশের ভাষ্য, শুরুতে ওরিওমির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না। তবে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কার্যক্রম ব্যাহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম