জাপানে পারিবারিক ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ কয়েকদিনের ব্যাপক অনুসন্ধানের পর উদ্ধার করা হয়েছে। এতে তার পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
২০ বছর বয়সী জেমস “ওয়েস্টন” হিগিনবোথামের মরদেহ শনিবার কিয়োটোর বাইরে একটি পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার করা হয় বলে তার পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে।
কিয়োটো পুলিশ জানায়, শহরের ইয়ামাশিনা এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা শনিবার বিকেল ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে তার মরদেহ খুঁজে পান। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হবে না।
পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, “কিয়োটোর বাইরে পাহাড়ি এলাকায় একটি স্বেচ্ছাসেবী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ওয়েস্টনকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পেয়েছে। আমাদের শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
গত ২৯ মে ওয়েস্টন তার বাবা-মা ও ভাইয়ের সঙ্গে জাপান সফরে ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি একাই কিয়োটো ঘুরতে বের হন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভ্রমণের সময় পথনির্দেশনার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়েছিল।
লাইফ৩৬০ অ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তারা দেখতে পান, ওয়েস্টন ট্রেনে চড়ে বিভিন্ন দোকানে গিয়েছেন। পরে তিনি কোথায় যাচ্ছেন জানতে চেয়ে বার্তা পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই তার অবস্থান-সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়, যা তার স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে মিলছিল না।
সিসিটিভি ফুটেজে সর্বশেষ তাকে কিয়োটোর ইয়ামাশিনা এলাকায় একা হাঁটতে দেখা যায়। ওই পথটি কাছের একটি বনাঞ্চলের হাইকিং ট্রেইলের দিকে যায়। ওয়েস্টনের হাইকিংপ্রেমের কারণে পুলিশ বনাঞ্চলে অনুসন্ধান চালায়। তবে ঝড়ো আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত হয়।
পুলিশের ৭২ ঘণ্টার অনুসন্ধান অভিযানে শতাধিক কর্মকর্তা, প্রশিক্ষিত কুকুর ও হেলিকপ্টার অংশ নেয়। কিন্তু শুক্রবার সেই অভিযান শেষ হয়। পরে শনিবার পরিবার স্থানীয় বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করে। সেদিনই তার মরদেহ পাওয়া যায়।
ওয়েস্টনের পরিবার জানিয়েছে, কঠিন সময়ে মানুষের সহানুভূতি ও সমর্থন তাদের শক্তি জুগিয়েছে। তারা সবার কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।
ওয়েস্টনের মৃত্যুর খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেছে তার বিশ্ববিদ্যালয়। অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টোফার রবার্টস বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার একজন মূল্যবান সদস্যকে হারিয়েছে। এই মর্মান্তিক ক্ষতিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”
আলাবামা অঙ্গরাজ্যের হুভার শহরের বাসিন্দা ওয়েস্টন স্পেন পার্ক হাই স্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। হুভারের মেয়র নিক ডারজিস বলেন, “গত কয়েক দিন পুরো সম্প্রদায় ওয়েস্টনের নিরাপদ ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করেছে। আজ তার পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।”
স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারাও শোক প্রকাশ করেছেন। তারা ওয়েস্টনের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের মতে, ওয়েস্টন ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী, পরিবেশ-সচেতন এবং ভ্রমণপিপাসু একজন তরুণ। তিনি অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাসটেইনেবিলিটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গভীর আগ্রহী ছিলেন।
তার মা ন্যান্সি হিগিনবোথাম বলেন, “ওয়েস্টন প্রকৃতিকে ভালোবাসত। নতুন নতুন জায়গা ঘুরে দেখা, পাহাড়ে হাঁটা এবং ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়াই ছিল তার স্বপ্ন। পৃথিবীকে জানার জন্য তার ছিল অসীম কৌতূহল।”
ভ্রমণের সময়ও তার সঙ্গে প্রজাপতি বিষয়ক একটি বই ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। ওয়েস্টনের অকাল মৃত্যু তার পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের জন্য এক গভীর শোকের ঘটনা হয়ে রইল।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম