আমেরিকা

ওয়ার্নার ব্রাদার্স কিনতে প্যারামাউন্টের ১১১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে মার্কিন অনুমোদন

হলিউডের অন্যতম বৃহৎ স্টুডিও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি অধিগ্রহণে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স-এর ১১১ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৮২.৮ বিলিয়ন পাউন্ড) প্রস্তাবকে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এই অনুমোদনের ফলে গণমাধ্যম ও বিনোদন জগতের অন্যতম বড় এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মালিকানায় রয়েছে সিএনএন, এইচবিও, ডিসি স্টুডিওস, নিউ লাইন সিনেমাসহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান। তবে চুক্তিটি এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এই অধিগ্রহণ পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজনে আদালতে গিয়ে চুক্তি আটকে দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে পারে। বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, তারা প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে কঠোর তদন্ত চালিয়েছে এবং এতে প্রতিযোগিতা বা ভোক্তাদের ক্ষতির আশঙ্কা খুঁজে পায়নি। বরং তাদের মতে, এই একীভূতকরণ গণমাধ্যম ও বিনোদন খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং ভোক্তা ও কর্মীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই অধিগ্রহণের ফলে বিনোদন শিল্পে ক্ষমতা আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হতে পারে, যা প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিতে পারে। তাঁর কার্যালয় জানিয়েছে, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। গত এপ্রিলে ১,৪০০-এর বেশি হলিউড অভিনেতা, পরিচালক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা একটি খোলা চিঠিতে এই একীভূতকরণের বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, এর ফলে সৃজনশীল কর্মীদের সুযোগ কমবে, চাকরি হারানোর ঝুঁকি বাড়বে, উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং দর্শকদের বিকল্প কমে যাবে। ২০২৫ সালে স্কাইড্যান্সের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর প্যারামাউন্ট তাদের প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছিল। ফলে নতুন এই চুক্তি নিয়েও হলিউডে চাকরি সংকোচনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে প্যারামাউন্টের কর্মকর্তারা বলছেন, এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে তারা কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় সাশ্রয় করতে পারবেন এবং আরও শক্তিশালী বিনোদন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবেন। চুক্তি সম্পন্ন হলে প্যারামাউন্টের বর্তমান সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হবে সিএনএন, এইচবিও, টিবিএস, টিএনটি, টিসিএম, ডিসি স্টুডিওস ও নিউ লাইন সিনেমা। বর্তমানে প্যারামাউন্টের অধীনে রয়েছে প্যারামাউন্ট পিকচার্স, সিবিএস, শোটাইম এবং নিকেলোডিয়ন। এদিকে প্যারামাউন্টের মালিকানাধীন সিবিএস নিউজ ও এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ৬০ মিনিটস সম্প্রতি রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির কিছু সিদ্ধান্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অনুকূল ছিল। উল্লেখ্য, গত বছর ওয়ার্নার ব্রাদার্স নিজেদের বিক্রির জন্য বাজারে তোলে। শুরুতে নেটফ্লিক্স তাদের কিছু সম্পদ কিনতে প্রায় ৮২ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল। পরে প্যারামাউন্ট আরও বড় প্রস্তাব নিয়ে আসে এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায়। হলিউডের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বড় বড় স্টুডিও একীভূত হওয়ার ফলে শিল্পে বৈচিত্র্য ও স্বাধীন সৃজনশীলতার সুযোগ কমে যেতে পারে। তবে সমর্থকদের মতে, কঠিন প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূত হওয়া প্রয়োজন।     এলএবাংলাটাইমস/ওএম