ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের উইলমিংটন হাসপাতালে গুলির ঘটনায় একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে ফিলাডেলফিয়া থেকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালের ভেতরে এ গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পরে ফিলাডেলফিয়ায় ২৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি ‘টার্গেটেড’ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। নিহত, আহত এবং সন্দেহভাজনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আহত ব্যক্তির বর্তমান অবস্থাও জানা যায়নি।
উইলমিংটন পুলিশ প্রধান উইলফ্রেডো কাম্পোস জানান, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালের ভেতরে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। গুলির ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে লকডাউন জারি করা হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মীদের বিভিন্ন কক্ষে অবস্থান নিতে ও দরজা বন্ধ করে থাকতে বলা হয়। পরে পুরো ভবন তল্লাশি শেষে লকডাউন তুলে নেওয়া হয় এবং হাসপাতাল পুনরায় চালু করা হয়।
উইলমিংটন হাসপাতাল পরিচালনাকারী ক্রিস্টিয়ানাকেয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, লকডাউনের সময় জরুরি বিভাগের রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
উইলমিংটনের মেয়র জন কার্নি বলেন, “হাসপাতালের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবন বাঁচানো ও চিকিৎসা প্রদান করা। এমন একটি স্থানে সহিংসতার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হাসপাতাল এমন একটি জায়গা হওয়া উচিত যেখানে মানুষ নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পায়।”
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মী ব্রায়ান ফেফার জানান, তিনি কর্মরত অবস্থায় পরপর দুটি জোরালো শব্দ শুনতে পান, যা আতশবাজির মতো মনে হয়েছিল। এরপর তিনি দ্রুত হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। তিনি বলেন, “মানুষ এখানে নিরাপত্তা ও চিকিৎসার জন্য আসে। এমন ঘটনা সত্যিই ভয়ঙ্কর।”
ঘটনার পর এফবিআই, ডেলাওয়্যার স্টেট পুলিশসহ একাধিক সংস্থা তদন্তে সহায়তা করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজনের পালানোর পথ শনাক্ত করার চেষ্টা চালায়।
ডেলাওয়্যারের গভর্নর ম্যাট মেয়ার বলেন, এই ঘটনা তার পরিবারের জন্যও ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগের কারণ, কারণ তার স্ত্রী ক্রিস্টিয়ানাকেয়ারে কর্মরত এবং ঘটনার সময় কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “প্রত্যেক ডেলাওয়্যারবাসীর বাড়ি, স্কুল, কর্মস্থল কিংবা হাসপাতালে নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে। আজকের ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে বন্দুক সহিংসতার প্রভাব থেকে কেউই সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।”
ক্রিস্টিয়ানাকেয়ারের আসন্ন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনিফার শোয়ার্টজ বলেন, “এই সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাই এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রয়েছে। এটি আমাদের পুরো সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক একটি ঘটনা।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম