আমেরিকা

ট্রাম্পের নির্দেশে রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার শুরু হচ্ছে, শ্যাওলা ও ভাঙচুর নিয়ে উদ্বেগ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক রিফ্লেক্টিং পুল পরিদর্শন করেছেন এবং এর সংস্কারকাজ “অবিলম্বে” শুরু হবে। সম্প্রতি কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সংস্কার ও নতুন করে নীল রঙ করা হলেও পুলটিতে এখনও নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পানিতে দ্রুত শ্যাওলা জন্মে পানি উজ্জ্বল সবুজ রঙ ধারণ করা। ট্রাম্প জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলের পানি এ মাসে দ্বিতীয়বারের মতো সম্পূর্ণ নিষ্কাশন করে আবার ভরতে হতে পারে। তিনি রোববার ক্যাম্প ডেভিড থেকে ফেরার পথে হেলিকপ্টার থেকে পুলটি পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের আগে কিছু ব্যক্তি পুলটির নতুন রঙ নষ্ট করেছে। ওয়াশিংটন ডিসির যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনিন পিরো সতর্ক করে বলেছেন, পুলে ভাঙচুর বা ভাঙচুরের চেষ্টা করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে ভাঙচুরের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও পাঁচজনকে পুলিশ সতর্কতামূলক নোটিশ দিয়েছে। এ ছাড়া মোট ১৪টি পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। ১৯২০-এর দশকে নির্মিত এই রিফ্লেক্টিং পুলটি লিংকন মেমোরিয়াল এবং ওয়াশিংটন মনুমেন্ট-এর মাঝখানে অবস্থিত। প্রায় ২,০৩০ ফুট দীর্ঘ এই জলাধারটি দীর্ঘদিন ধরে পানি লিকেজ, কাঠামোগত ক্ষয়, পাইপের ত্রুটি, শ্যাওলার বিস্তার এবং পাখির বর্জ্যজনিত সমস্যায় ভুগছে। সম্প্রতি প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সংস্কার করা হলেও নতুন রঙ খসে পড়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “গুরুতরভাবে ভাঙচুর হওয়া রিফ্লেক্টিং পুল মেরামতের কাজ অবিলম্বে শুরু হবে।” তিনি ভাঙচুরকারীদের “অসুস্থ ও বিকৃত মানসিকতার মানুষ” বলেও মন্তব্য করেন। তবে সাংবাদিকদের তথ্যমতে, তিনি সরাসরি পুলে না গিয়ে হেলিকপ্টার থেকেই এটি পর্যবেক্ষণ করেন। এদিকে শুক্রবার সাবেক অলিম্পিক ক্যানো প্রতিযোগী ডেভিড ‘ডেভি’ হার্ন-কে পুলে ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কেবল খসে পড়া রঙ স্পর্শ করেছিলেন এবং পুলের কোনো ক্ষতি করেননি। তিনি এ গ্রেপ্তারকে “অযৌক্তিক ও খামখেয়ালি বিচারিক পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেন। পুলের সবুজ শ্যাওলা দূর করতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করছে, যার মধ্যে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডও রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যেই সপ্তাহান্তে এক সংবাদ আলোকচিত্রী পুলে একটি মৃত হাঁসের বাচ্চা ভাসতে দেখেন। তবে প্রাণীটির মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি। অন্যদিকে, জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটি-এর জলজ পরিবেশবিদ্যার অধ্যাপক রোজালিনা স্তানচেভা খ্রিস্টোভা পুলের পানির নমুনা পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, সেখানে থাকা সবুজ শ্যাওলাটি ডেসমোডেসমাস নামের একটি প্রজাতি, যা মানুষ বা প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, পাখির মাধ্যমে অন্য ধরনের শ্যাওলা বা ব্যাকটেরিয়া পুলে প্রবেশ করতে পারে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই তিনি নিয়মিত পানি পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম