যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস প্রথমবারের মতো এমন একটি প্রস্তাব পাস করেছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করতে অথবা তা চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। ভোটাভুটিতে কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমর্থন দেন। এর আগে চলতি মাসেই প্রতিনিধি পরিষদেও একই প্রস্তাব পাস হয়েছিল।
তবে প্রস্তাবটি আইনি বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন নয়। এটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে না এবং আইন হিসেবে কার্যকরও হবে না। মূলত এটি কংগ্রেসের অবস্থান ও মতামতের প্রকাশ।
ভোটের পর ট্রাম্প প্রস্তাবটির তীব্র সমালোচনা করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “ইরানকে আমি কোণঠাসা করে ফেলেছি, ঠিক এমন সময় সিনেট এই অর্থহীন ও ভুল সময়ে যুদ্ধক্ষমতা আইন নিয়ে ভোট দিল। এতে আমার কাজ আরও কঠিন হয়েছে, তবে আমি যেভাবেই হোক কাজ শেষ করব।”
১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কংগ্রেসের উভয় কক্ষ কোনো প্রেসিডেন্টকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে যৌথ প্রস্তাব অনুমোদন করল।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটির আইনি শক্তি না থাকলেও এটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক লরা ব্লুমেনফেল্ড বলেন, “এটি হাতকড়া নয়, বরং কবজিতে একটি চড়ের মতো। তবে এটি আমেরিকান জনগণের মনোভাবকে প্রতিফলিত করে।”
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘায়িত সংঘাত এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফলে হোয়াইট হাউসের ওপর যুদ্ধের সমাপ্তি টানার চাপও বাড়ছে।
সিনেটে রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল, লিসা মারকাউস্কি, সুসান কলিন্স এবং বিল ক্যাসিডি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে শুধু জন ফেটারম্যান এর বিপক্ষে ভোট দেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বর্তমানে এমন কোনো সক্রিয় যুদ্ধ পরিস্থিতি নেই, যেখান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া দুই রিপাবলিকান সিনেটর অনুপস্থিত থাকায় প্রস্তাবটি পাস হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে পেন্টাগন ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সময় সামরিক অভিযান চালানো যায় না। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির ফলে সেই সময়সীমা নতুন করে গণনা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। গত সপ্তাহে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম