লস এঞ্জেলেসে ৬২ বছর বয়সী এক নারী পথবিক্রেতাকে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গত ১৫ জুন বিকেল ৪টার দিকে শহরের ফিগুয়েরোয়া স্ট্রিট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আরাবেলিয়া মার্টিনেজ নামে ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে সেখানে হটডগ বিক্রি করে নিজের ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী মার্টিনেজের দোকানের সামনে এসে তার সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে ওই নারী বিক্রেতার গাড়ির ওপর সস ছিটিয়ে দেন। জবাবে মার্টিনেজ তার দিকে কিছু মসলা ছুড়ে মারেন। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, হামলাকারী নারী মার্টিনেজকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন এবং বারবার আঘাত করেন। আশপাশে থাকা কয়েকজন সাহায্যের চেষ্টা করলেও প্রায় এক মিনিট ধরে হামলা চলতে থাকে।
মার্টিনেজের ছেলে কনস্টান্টিনো গার্সিয়া বলেন, “ভিডিওটি দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। পুরোটা দেখতেও পারিনি।”
গার্সিয়ার দাবি, হামলার আগে ওই নারী তার মায়ের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “ওই নারী আমার মাকে বলেছিল, এখানে ব্যবসা করতে হলে অনুমতি লাগবে এবং সে টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু আমার মায়ের বৈধ অনুমতিপত্র ছিল।”
তার অভিযোগ, টাকা না পেয়ে ওই নারী বর্ণবাদী মন্তব্যও করেন। গার্সিয়ার ভাষায়, “তিনি আমার মাকে ‘মেক্সিকোতে ফিরে যাও’ বলে অপমান করেন এবং আরও অনেক আপত্তিকর কথা বলেন।”
হামলার পরও মার্টিনেজ শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে। তিনি বলেন, “মায়ের মাথাব্যথা এখনো কমেনি। ভিডিওতে দেখা গেছে, তাকে জোরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এজন্য তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।”
ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন আশপাশে থাকা লোকজন আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি।
গার্সিয়া বলেন, “আমাদের সমাজে কী হচ্ছে? দিনের আলোতে একজন বয়স্ক নারী মার খাচ্ছেন, আর মানুষ শুধু দাঁড়িয়ে দেখছে। এটা দেখা আমার জন্য খুবই কষ্টকর ছিল।”
প্রত্যক্ষদর্শী সেবাস্তিয়ান গুতিয়েরেজ জানান, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও হামলাকারী নারী এলাকায় অন্য বিক্রেতাদের টেবিল উল্টে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিলেন। তার ধারণা, ওই নারীর মানসিক সমস্যা থাকতে পারে অথবা তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন।
এ ঘটনায় লস এঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ মারধরের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয় বা গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে মার্টিনেজের পরিবার তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি পথবিক্রেতাদের প্রতিদিন যে ঝুঁকির মুখে কাজ করতে হয়, সে বিষয়েও জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছে।
গার্সিয়া বলেন, “আমি শুধু চাই, আমার মা যেন ন্যায়বিচার পান। ভিডিওটি দেখে মানুষ যে তার প্রতি সহমর্মিতা দেখাচ্ছে, সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম