যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, নির্বাচনের দিন বা তার আগে ডাকযোগে পাঠানো (পোস্টমার্ক করা) ব্যালট যদি কয়েক দিন পরে পৌঁছায়, তবুও সেগুলো গণনা করা যাবে। এ রায়ের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান বড় ধাক্কা খেয়েছে।
৫-৪ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এই রায়ে আদালত মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি আইন বহাল রাখে। ওই আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন বা তার আগে পোস্টমার্ক করা ডাকযোগে ভোট নির্বাচন-পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে পৌঁছালে তা বৈধ হিসেবে গণনা করা যাবে।
রায়ের পর ট্রাম্প একে "বড় ধরনের ক্ষতি" বলে মন্তব্য করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতির ঝুঁকি রয়েছে। তবে তার এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বারবার পাওয়া যায়নি।
আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লেখেন বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট। তার সঙ্গে একমত হন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং আদালতের তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি।
রায়ে বিচারপতি ব্যারেট বলেন, ফেডারেল আইনে নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হলেও ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট ঠিক কখন নির্বাচন কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছাতে হবে, সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাই কংগ্রেস যে ভাষায় আইন করেছে, আদালত তার বাইরে নতুন শর্ত যোগ করতে পারে না।
অন্যদিকে, ভিন্নমত পোষণ করেন বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো। তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ব্যালট গ্রহণ করলে কার্যত ভোটগ্রহণের সময়সীমা বাড়ানো হয়, যা ফেডারেল আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার মতে, এতে ভোট জালিয়াতির সম্ভাবনা নিয়ে জনমনে আরও সন্দেহ তৈরি হতে পারে।
এই রায়ের প্রভাব এক ডজনেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে পড়তে পারে, যেখানে নির্বাচনের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ডাকযোগে পাঠানো ভোট গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এসব অঙ্গরাজ্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রায়ের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস করার আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটারদের জন্য ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি অসুস্থতা, প্রতিবন্ধকতা, ভ্রমণ বা সামরিক দায়িত্ব ছাড়া ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব রয়েছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এই রায় "সৎ নির্বাচনের জন্য ক্ষতিকর"। তিনি আবারও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা বিশ্বের অন্য দেশগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রমী এবং এতে অনিয়মের সুযোগ রয়েছে।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ভোটারদের জন্য একটি বড় জয়। তার মতে, ডাকযোগে পাঠানো বৈধ ভোট যেন গণনা হয় এবং মানুষের মতামত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হয়, সেই বিষয়টি এই রায় নিশ্চিত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতির ঘটনা অত্যন্ত বিরল। গত বছর প্রকাশিত ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে প্রতি এক কোটি ডাকযোগে ভোটের বিপরীতে গড়ে মাত্র চারটি জালিয়াতির ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্প নিজেও চলতি বছরের শুরুতে ফ্লোরিডার একটি বিশেষ নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দিয়েছিলেন। তবে হোয়াইট হাউস জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ফ্লোরিডার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত এবং আইন অনুযায়ীই ভোট দিয়েছেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম