আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা প্রশমনের পথে, আপাতত হামলা বন্ধে সম্মতি

সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আপাতত সামরিক অভিযান থেকে সরে দাঁড়াতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালি ঘিরে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। তবে মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে এবং স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সোমবার বলেন, এ সপ্তাহে কোনো কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অনুরোধে মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, "ইরান বৈঠকের অনুরোধ করেছে। আগামীকাল দোহায় সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।" যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে এ সপ্তাহে দোহায় যাচ্ছেন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনা হবে। গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এতে সব ধরনের সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার অঙ্গীকার করা হয়। এছাড়া ইরান ৬০ দিনের জন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে দুই সপ্তাহও পার না হতেই যুদ্ধবিরতি আবারও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র একটি পণ্যবাহী জাহাজে আঘাত হানার পর নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। এর জবাবে সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ধারাবাহিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় এসব অভিযান চালানো হয়েছে। শনিবার ইরানও পাল্টা কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কোনো ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারেনি এবং এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান কার্যত এ নৌপথে চলাচল সীমিত করে দেয়। এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি কাঠামোগত শান্তি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ তৈরি করা। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় সেই যুদ্ধবিরতিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হিজবুল্লাহর নেতা ওই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে লেবানন সরকারের বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলেছেন। চুক্তি স্বাক্ষরের দুই দিন পর রোববার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, সেখানে শত শত অস্ত্র মজুত ছিল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল। এদিকে তেহরানের বক্তব্য, লেবাননে সংঘাত বন্ধ না হলে বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি টেকসই হবে না। এলএবাংলাটাইমস/ওএম