আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে নবায়ন করল না উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আমেরিকার তিন দেশের মধ্যে বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি USMCA (ইউএস–মেক্সিকো–কানাডা এগ্রিমেন্ট) বর্তমান রূপে দীর্ঘমেয়াদে নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও ১৬ বছরের জন্য বাড়ানো হচ্ছে না, যা উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বর্তমান চুক্তির বিভিন্ন সমস্যা সমাধান না করে সরকার এটি নবায়ন করতে চায়নি। তাই যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান অবস্থায় চুক্তি নবায়নে সম্মতি দেয়নি। USMCA-এর নিয়ম অনুযায়ী, চুক্তিটি আরও ১৬ বছরের জন্য বাড়াতে হলে তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—সবার সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু কোনো একটি দেশ আপত্তি জানালে স্বয়ংক্রিয় নবায়ন হয় না। সে ক্ষেত্রে প্রতি বছর বৈঠক করে চুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও দরকষাকষি করতে হবে। একই সঙ্গে ১০ বছরের একটি কাউন্টডাউন শুরু হবে, যার ফলে ২০৩৬ সালেই চুক্তিটি শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আপাতত USMCA কার্যকর থাকছে। এই চুক্তির আওতায় প্রতিবছর প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়, যা উত্তর আমেরিকার অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চুক্তির কয়েকটি বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি উৎপাদনে উত্তর আমেরিকায় তৈরি যন্ত্রাংশের বাধ্যবাধকতা, কানাডার দুগ্ধবাজারে প্রবেশাধিকার এবং চীনের মতো তৃতীয় কোনো দেশ যেন এই আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, উৎপাদনশিল্প ও কৃষিখাত সীমান্তপারের স্থিতিশীল বাণিজ্যের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই তারা চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি নবায়নের পক্ষে ছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের American Iron and Steel Institute এবং Steel Manufacturers Association-এর মতো দেশীয় শিল্প সংগঠনগুলো সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রতি বছর চুক্তি পর্যালোচনার সুযোগ থাকলে যুক্তরাষ্ট্র নিজের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। উল্লেখ্য, USMCA ২০২০ সালে কার্যকর হয় এবং ১৯৯৪ সালের NAFTA (নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট)-এর পরিবর্তে চালু করা হয়। নতুন এই চুক্তিতে ডিজিটাল বাণিজ্য, শ্রমিকদের অধিকার এবং উত্তর আমেরিকায় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছিল।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম