মেইন অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী গ্রাহাম প্ল্যাটনারকে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। তার সাবেক এক নারী সঙ্গী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলার পর এ চাপ আরও জোরালো হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত পলিটিকো-এর এক প্রতিবেদনে ওই নারী অভিযোগ করেন, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অনিয়মিত সম্পর্ক থাকার পর একদিন প্ল্যাটনার তার অনুমতি ছাড়া বাড়িতে প্রবেশ করে যৌন নিপীড়ন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় প্ল্যাটনার মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
তবে সাবেক মেরিন সদস্য ও ঝিনুক চাষি গ্রাহাম প্ল্যাটনার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, অভিযোগটি "সম্পূর্ণ মিথ্যা"। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় তিনি নির্বাচনে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন বলেও জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্ল্যাটনার বলেন, তিনি মেইনের মানুষের স্বার্থ, নিজের রাজনৈতিক আন্দোলন এবং বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে পরাজিত করার লক্ষ্য মাথায় রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার এবং সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে "অত্যন্ত উদ্বেগজনক" উল্লেখ করে বলেন, সহিংসতা, নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের কোনো স্থান নেই। তারা প্ল্যাটনারকে অবিলম্বে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
ডেমোক্র্যাট সিনেটরিয়াল ক্যাম্পেইন কমিটিও জানিয়েছে, প্ল্যাটনার প্রার্থী থাকলে তারা মেইনের সিনেট নির্বাচনে কোনো অর্থায়ন করবে না।
এরপর আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা, যেমন এলিজাবেথ ওয়ারেন, কোরি বুকার ও এলিসা স্লটকিনও তার সরে দাঁড়ানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে কংগ্রেসম্যান রো খান্না এবং সিনেটর মার্টিন হাইনরিখ ও রুবেন গালেগো প্ল্যাটনারের প্রতি দেওয়া সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
এ ঘটনার পর প্ল্যাটনারের নির্বাচনী প্রচারণার এ সপ্তাহের কয়েকটি কর্মসূচিও স্থগিত করা হয়েছে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্ল্যাটনারের প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স। ডেমোক্র্যাটদের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে মেইনের এই আসনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে নতুন প্রার্থী মনোনয়নের সুযোগ রাখতে হলে প্ল্যাটনারকে আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে।
অভিযোগকারী ৪১ বছর বয়সী জেনি রেসিকট জানান, তিনি আগে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সঙ্গেও কথা বলেছিলেন। তবে নিজেকে ধর্ষণের শিকার হিসেবে প্রকাশ্যে পরিচিত করতে না চাওয়ায় তখন তিনি অভিযোগ প্রকাশ করেননি। পরে বিষয়টি সামনে আনার সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগেও প্ল্যাটনারকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে তার তিন সাবেক প্রেমিকা অভিযোগ করেন, তিনি রাগী ও অস্থির আচরণ করতেন।
এ ছাড়া তার বুকে নাৎসি বাহিনীর ব্যবহৃত "টোটেনকফ" (মৃত্যুর মাথা) প্রতীকের মতো দেখতে একটি ট্যাটু পাওয়া নিয়েও সমালোচনা হয়। প্ল্যাটনার বলেন, ২০০৭ সালে ক্রোয়েশিয়ায় সহকর্মী মেরিনদের সঙ্গে অবস্থানকালে মদ্যপ অবস্থায় তিনি ট্যাটুটি করিয়েছিলেন এবং পরে সেটি ঢেকে ফেলেন।
পুরোনো রেডিট পোস্টেও দেখা যায়, তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের নিজেদেরও কিছু দায়িত্ব নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তিনি ভোটারদের কাছে ক্ষমা চান এবং বলেন, ১৪ বছর আগের একটি মন্তব্য দিয়ে যেন তাকে বিচার না করা হয়।
এ ছাড়া বিয়ের বাইরে অন্য নারীদের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদানের অভিযোগও তিনি স্বীকার করেছেন। তবে তার দাবি, এটি তাদের দাম্পত্য জীবনের শুরুর দিকের ভুল ছিল এবং স্ত্রী তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি করার পর তারা সেই সংকট কাটিয়ে উঠেছেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম