হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববার রাতে তারা ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা দুর্বল করা, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষমতা কমে যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে এবং বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ হারে নিরাপত্তা ফি বা চার্জ আরোপের কথাও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সেই ব্যয়ের বিনিময়ে এই অর্থ আদায় করবে।
অন্যদিকে আইআরজিসি অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তাদের দাবি, এই জলপথের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার অধিকার ইরানের রয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, প্রণালীটি বন্ধ নয় এবং সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে গত জুনে চার মাসের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল, সাম্প্রতিক এই সংঘাত তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।
ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মাহশাহর, আবাদান, হরমোজগান, কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসসহ একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, একটি পানি সরবরাহ কেন্দ্র ও একটি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের কর্মী নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী দুটি জাহাজকে সতর্ক করতে গুলি ছুড়েছে। তাদের দাবি, জাহাজ দুটি অনুমোদিত পথ ব্যবহার না করে ওমানের জলসীমা দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করছিল।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান উত্তেজনা কমানোর সব প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। একই সঙ্গে ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালী পরিচালনার উদ্যোগেও ওয়াশিংটনের চাপ বাধা সৃষ্টি করছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম