আমেরিকা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলা, পাল্টা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের হামলা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইরানের দাবি, তারা জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক সমঝোতা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী একাধিক হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাদের ভাষ্য, এই অভিযান ছিল হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি আলোচনায় না ফেরে এবং "ভদ্র আচরণ" না করে, তাহলে দেশটিকে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে। মঙ্গলবার তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলারও হুমকি দেন। জবাবে ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, যে কোনো চুক্তি যদি ইরানের স্বার্থ রক্ষা না করে, তাহলে তা মেনে চলার কোনো কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় বন্দর আব্বাস ও গ্রেটার তুনব দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। হামলার পর রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এর কিছুক্ষণ পর উপসাগরীয় দেশগুলোও হামলার খবর জানায়। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং প্রয়োজন হলে নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়। ইরানের সামরিক বাহিনী আরও দাবি করেছে, তারা জর্ডানে থাকা মার্কিন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জ্বালানি সংরক্ষণাগারেও হামলা চালিয়েছে। এদিকে, বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ কার্যকর করেছে। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় এই অবরোধ সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিল। পরদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী কুরাসাওয়ের পতাকাবাহী একটি খালি তেলবাহী জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেয়। সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি অবরুদ্ধ একটি ইরানি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থে ব্যবহৃত আরও তেল ও গ্যাস রপ্তানি পথ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। যদিও কোন কোন রুট বন্ধ করা হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের একটি পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে আটক থাকা মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারিকে মুক্তি দিয়েছে ইরান। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, "যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই সদিচ্ছার পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়।" ডেনা কারারির আইনজীবী জ্যারেড জেনসার জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে রয়েছেন।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম