আমেরিকা

মাদক সম্রাট ‘এল মায়ো’ জাবাম্বাদার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানাও

মেক্সিকোর কুখ্যাত সিনালোয়া কার্টেলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ মাদক সম্রাট ইসমায়েল ‘এল মায়ো’ জাবাম্বাদাকে (জামবাদা) যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১১ বিলিয়ন পাউন্ড) জরিমানা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ফেডারেল আদালতে বিচারক ব্রায়ান কোগান এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত বছর জাবাম্বাদা মাদক পাচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ স্বীকার করে আদালতের সঙ্গে একটি সমঝোতা করেন। এর ফলে তিনি মৃত্যুদণ্ড এড়ানোর সুযোগ পান, তবে বাধ্যতামূলকভাবে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে ৭৬ বছর বয়সী জাবাম্বাদা কুখ্যাত মাদক সম্রাট জোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমানের সঙ্গে ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে সিনালোয়া কার্টেল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই কার্টেল যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেনসহ বিভিন্ন মাদক পাচার করে আসছিল। ২০২৪ সালে এক অভিনব কৌশলে জাবাম্বাদাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এল চাপোর ছেলে জোয়াকিন গুজমান লোপেজ তাকে বিশ্বাস করান যে তারা উত্তর মেক্সিকোয় গোপন বিমানঘাঁটি পরিদর্শনে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের বহনকারী বিমানটি মেক্সিকোর বদলে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবতরণ করলে সেখানেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় জোয়াকিন গুজমান লোপেজকেও আটক করা হয়। তিনিও মাদক-সংক্রান্ত ফেডারেল অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন, যদিও এখনো তার সাজা ঘোষণা হয়নি। রায় ঘোষণার সময় স্প্যানিশ ভাষার দোভাষীর মাধ্যমে আদালতে বক্তব্য দেন জাবাম্বাদা। তিনি বলেন, “আমি যে ক্ষতি করেছি এবং মানুষের সামনে যে ভুল উদাহরণ তৈরি করেছি, তার জন্য আমি দুঃখিত।” ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা ভিন্ন একটি পথ বেছে নাও।” তিনি আরও বলেন, “যদি আজ আমার কোনো কথার মূল্য থাকে, তবে সেটি হলো—সহিংসতার অবসান হওয়া উচিত। মেক্সিকোসহ যেসব দেশ এ ধরনের অপরাধে ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, পরিবার ধ্বংস হচ্ছে এবং তরুণরা এমন এক চক্রে আটকে যাচ্ছে, যার শেষ হয় কারাগার কিংবা মৃত্যুর মাধ্যমে।” মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ১৫ বিলিয়ন ডলারের জরিমানার অর্থ হলো সিনালোয়া কার্টেলের প্রধান নেতা হিসেবে মাদক পাচার থেকে অর্জিত অবৈধ মুনাফার হিসাব। মার্কিন প্রসিকিউটর জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, “ইসমায়েল জাবাম্বাদা প্রায় চার দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সমাজে মাদকের বিষ ছড়িয়ে দিয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। নিজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো মানুষদের হত্যার নির্দেশও দিয়েছেন। আজ সেই অধ্যায়ের স্থায়ী সমাপ্তি হলো।” প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, জাবাম্বাদা বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ভয়ংকর মাদক পাচারকারীদের একজন ছিলেন। জাবাম্বাদা গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই সিনালোয়া কার্টেলের ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি গোষ্ঠীর সংঘর্ষে মেক্সিকোর সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে বহু মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। এদিকে জাবাম্বাদা বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে কারাগারের পরিবর্তে কারা-হাসপাতালে রাখার আবেদন করেছেন। তবে মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, কারাগারে থেকেও তিনি মাদক চক্র পরিচালনার চেষ্টা করতে পারেন। তাই তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার কারাগারে রাখার পক্ষে তারা মত দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তাকে কোথায় রাখা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনস। বিশ্লেষকদের মতে, জাবাম্বাদার সাজা সিনালোয়া কার্টেলের জন্য প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এতে মাদক ব্যবসার বড় কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ মেক্সিকোর সংগঠিত অপরাধচক্রে একজন নেতার জায়গায় খুব দ্রুতই আরেকজন উঠে আসে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন ও ফেন্টানিল পাচারের প্রবাহেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম