সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সরকার নতুন একটি বৈশ্বিক ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতি ঘোষণা করেছে, যা শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নয়, তাদের নিকটাত্মীয়দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট-এর ধারা ২১২(এ)(৩)(সি) অনুযায়ী এই নীতি কার্যকর করা হচ্ছে। এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাইবার অপরাধ দমনের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।
মার্কিন সরকারের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা, বিশেষ করে চীনের আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাইবার প্রতারণা, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এসব প্রতারণার কারণে শুধু ২০২৪ সালেই মার্কিন নাগরিকদের অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া এসব অপরাধের মাধ্যমে অর্থপাচার, দুর্নীতি এবং মানব পাচারের মতো অপরাধও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশু-কিশোররাও এসব প্রতারণার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে পরিচালিত ‘রোমান্স স্ক্যাম’ বা ভুয়া প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বহু পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪৩৯০-এ স্বাক্ষর করেন। ‘আমেরিকান নাগরিকদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, প্রতারণা ও শোষণমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ’ শীর্ষক এই নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতেই নতুন ভিসা নীতি চালু করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ভিসা নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ফৌজদারি মামলা, সম্পদ জব্দ, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, "যারা আমাদের নাগরিকদের প্রতারণার শিকার বানায়, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে।"
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযুক্তদের পাশাপাশি তাদের নিকটাত্মীয়দেরও ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে, সাইবার অপরাধ দমনে তারা কেবল আইনগত ব্যবস্থাই নয়, প্রয়োজনীয় সব ধরনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম